সম্প্রতি অকাল বর্ষণে একদিকে যেমন সিলেট অঞ্চলের বোরো ফসলের সর্বনাশ হয়েছে। তেমনি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরইমধ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট থেকে খেজুরিছড়া চা বাগান পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কে সে নজির দৃশ্যমান।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের অধিকাংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চৈত্রের বৃষ্টিতেই জায়গায় জায়গায় জমেছে পানি। গোটা সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত আর ভাঙন।
সরেজমিনে কালিঘাট থেকে খেজুরিছড়া চা বাগান সড়কে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গেছে। ১৩ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাজুড়ে খানাখন্দ। পানি ভর্তি থাকায় এসব গর্তের গভীরতা অনুমান করা কঠিন। তাতেই ঘটছে বিপদ।
সড়কের কোথাও কাদা, কোথাও পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এতে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৩ কিলোমিটার সড়কের অন্তত ৮ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বিশেষ করে কালিঘাট চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে খেজুরিছড়া চা বাগানের ডিনস্টন সিমেট্রি পর্যন্ত অংশটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পথে চলাচল করতে গিয়ে শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও জিপচালকেরা জানান, ঝুঁকি নিয়েই তাদের গাড়ি চালাতে হয়। খানাখন্দে পড়ে প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যায় কিংবা গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। বড় গর্তে চাকা আটকে যাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। গতকালও এক অটোরিকশার যাত্রী পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানান তারা।
রানার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রীতা বোনার্জী বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে অটোরিকশাচালক বা জিপে উঠতে হয়। রাস্তার কারণে এত ঝাঁকুনি লাগে যে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় কাদাপানিতে ভরে যায় রাস্তা। অনেক সময় জামাকাপড়ের পাশাপাশি বইও নষ্ট হয়। দ্রুত রাস্তা সংস্কার প্রয়োজন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রাকিব বলেন, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সড়কটির সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্পে আরও সাড়ে ৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ দ্রুত শুরু হবে।




















