আসন্ন সিসিক নির্বাচন: যে কারণে আলোচনায় বিএনপির ৮ সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৫/২০২৬ ১১:০৮:৪২ PM

Share
17

আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে ঘিরে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের নির্বাচন অন্য যেকোনো বারের চেয়ে আলাদা। কারণ, নতুন সংশোধিত আইন অনুযায়ী এবার আর থাকছে না দলীয় প্রতীক। ফলে দলীয় প্রভাবের চেয়ে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক হয়ে উঠছে।

​গত ১৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘোষণা অনুযায়ী—চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের তফসিল একযোগে ঘোষণা হতে পারে। এই ঘোষণার পর থেকেই সিসিকের রাজনীতির মাঠ গরম হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির একঝাঁক শীর্ষ ও স্থানীয় নেতা মেয়র পদে লড়তে অনানুষ্ঠানিকভাবে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।


আলোচনায় উঠে আসা বিএনপির শীর্ষ ৮ সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হলেন:
কাইয়ুম চৌধুরী, তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমানে সিসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বদিউজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালের সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে দলীয় পদমর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এমদাদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সময়ে সিলেটের যেকোনো বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে (যেমন: ফুটপাত হকারদের সমস্যা বা স্থানীয় আন্দোলন) তাঁকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

নাসিম হোসাইন, ২০২৩ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সিলেট মহানগর বিএনপির বহুল আলোচিত কাউন্সিলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিপুল ভোটে নাসিম হোসাইন সভাপতি নির্বাচিত হন। 

  • কয়েছ লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ছিলেন সিসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র। কয়েছ লোদী সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড থেকে পরপর চারবার বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় পুরো সিলেট নগরে, বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকায়, তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

ইশতিয়াক সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মতো শক্তিশালী সাংগঠনিক পদে থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও যুবসমাজের মাঝে তাঁর এক বিশাল রাজনৈতিক বলয় রয়েছে।
 
মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই ধারাবাহিক সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই দল তাঁকে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়। সিলেটে করোনাকালীন বিপর্যয় কিংবা ভয়াবহ বন্যার সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি "কর্মীবান্ধব ও মানবিক নেতা" হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। হামলা-মামলায় জর্জরিত দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সিলেটে অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল।

হাজী দিনার, দীর্ঘ সময় ধরে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সিলেটের ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর রয়েছে ব্যাপক প্রভাব ও শক্তিশালী অনুসারী বাহিনী।

​২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হলেও দেশের পটপরিবর্তনের পর তাকে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে প্রশাসক দিয়ে সিটি কর্পোরেশন চালানো হলেও নাগরিক সেবায় এক ধরণের ধীরগতি ও স্থবিরতা নেমে আসে। বর্তমানে কাউন্সিলর না থাকায় সাধারণ মানুষকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ ছোটখাটো কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নগরবাসীর মতে, এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কোনো বিকল্প নেই।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪২টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ভোটারের এই নগরে দলীয় প্রতীক না থাকায় এবারের লড়াই হবে বহুমাত্রিক। কোনো একক প্রতীকের জোয়ারে নয়, বরং প্রার্থীদের নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড এবং জনগণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততাই ভোটের মাঠে মূল ব্যবধান গড়ে দেবে।  স্থানীয় সমীকরণ বেশ জটিল রূপ নিতে পারে। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে আসতে পারে তাহলে স্থানীয় সমীকরণ বেশ জটিল রূপ নিতে পারে।
প্রশাসনিক কাঠামোর ধীরগতি কাটিয়ে কার হাত ধরে সিসিক তার পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সেবা ও গতিশীলতা ফিরে পায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় পুরো সিলেটবাসী।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৫-২০ ২৩:০৮:৪২