ধোপাদিঘীরপাড়ে সবজি বিক্রেতা খুন, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার তিন কিশোর

  • প্রকাশের সময় : ০২/০৬/২০২৩ ১২:২৫:২৪ PM

Share
185

সিলেট নগরীর ওয়াকওয়েগুলোকে কেন্দ্র করে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার সিলেটপ্রেস ও দৈনিক সিলেট বাণীতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার দুদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘবদ্ধ ছিনতাকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হন সবজি বিক্রেতা গোবিন্দ দাস (৩৩)। তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার গৌরাদ্দ দাসের ছেলে। আখালিয়া নয়াবাজারের রিংকুর কলোনীতে পরিবার নিয়ে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন রাতে পুলিশ তিন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো রাহাত রাব্বি (২০)। সে নগরীর শিবগঞ্জ সাদিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। সৌরভ দাস (১৯)। সে একই এলাকার রিন্টু দাসের ছেলে। তাদের মূল বাড়ি জৈন্তার হরিপুরের দরবস্ত এ। এবং আতিকুর রহমান শুভ (১৮)। সে টিলাগড় ভাটাটিকর ১নং রোড এলাকায় বসবাসকারী আলমাছ মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে গোবিন্দ দাস নিজ বাসা থেকে সোবহানীঘাট কাঁচাবাজার পাইকারি আড়ৎ থেকে ভ্যানগাড়ি দিয়ে প্রতিদিনের মতো সবজি কিনতে যাচ্ছিলেন। তখন সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা তার গতিরোধ করে টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিতে ধস্তাধস্তি করে। এক পর্যায় ছুরিকাঘাতের পর টাকাপয়সা নিয়ে পালিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান। তার আগে গত ২৩ মে রাতে এই ধোপাদিঘীর পাড় থেকে মোবাইল ছিনতাইয়ের জন্য এক কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ছিনতাইকারীরা। যদিও পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধার করে ও অপহরণকারী ৩ জনকে গ্রেফতার করে। প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, নগরীর নবনির্মিত ওয়াকওয়েগুলোকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের কয়েকটি গ্রুপ গড়ে উঠেছে। ভোরবেলা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ওয়াকওয়ে ও তার আশপাশে ঘোরাফেরা করে। এদের অধিকাংশের সাথে ছোটছোট ছুরি থাকে। ওয়াকওয়েতে ঘুরতে আসা অনেকের কাছ থেকে ছুরি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকাপয়সা, মোবাইল ও মেয়েদের পড়নে থাকা স্বর্ণের নানা জিনিষ ছিনিয়ে নেয়।

এমনকি ধোপাদিঘী ওয়াকওয়েতে পর্যটকদের ছবি তোলে দেয়া ফটোগ্রাফরাদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা নিয় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা। ভুক্তভোগীরা লোকলজ্জার ভয়ে কিউ বা ঝামেলা এড়াতে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতেন না। পুলিশ কিংবা সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওইসব স্থানে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টির ব্যাপারে উদাসীন। বিষয়টি নিয়ে বারবার পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পরও টনক নড়ছেনা কর্তৃপক্ষের। অনেকে মনে করছেন গত ২৩ মে রাতে ধোপাদিঘীর পাড়ে কলেজ শিক্ষার্থীর অপহৃত হওয়ার বিষয়টির গুরুত্ব দিয়ে নগরীতে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হলে হয়তো সবজি বিক্রেতা ছিনতাইকারীর হাতে খুন হতো না। প্রতিটা ঘটনা ঘটার পর পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। আর তখন অপরাধীরা গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয়। পরে পুলিশের তৎপরতায় ভাটা পড়লে তারা পুনরায় সক্রিয় হয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়। নগরের ওয়াকওয়েতে ঘুরতে যাওয়া অনেকের অভিমত ; আর কারো সন্তান যাতে খুন না হয় অনন্ত পক্ষে সেজন্য নগরীতে পুলিশের চিরুনি অভিযান নিয়মিত দেয়া অতীব প্রয়োজন। সজবি বিক্রেতা খুন হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৫জনকে সনাক্ত করা হয় এবং ৩ জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েন এসএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবার আলী শেখ। এবং বাকিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি সিলেটপ্রেস কে জানান।


সিলেট প্রেস / ২ জুন ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
জাবেদ এমরান

জাবেদ এমরান

প্রকাশ: ২০২৩-০৬-০২ ১২:২৫:২৪