সাজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

  • প্রকাশের সময় : ২৪/০৪/২০২৬ ০৭:১০:১০ AM

Share
22

সিলেট নগরীর পূর্ব এলাকায় সাজন নামটি অপরাধ জগতের সবার চেনা। ছাত্রলীগের সাজন বললে সবাই এক নামেই চিনেন। সিলেটের ডেভিল রঞ্জিতের টর্চার সেলের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সে। সেই সাজন ফের মাঠে। অপরাধে সক্রিয়। এরই মধ্যে সাজন ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আগ্নেয়াস্ত্রসহ সহযোগীদের নিয়ে শহরতলীর বিসিক শিল্পনগরীর আলাই মার্কেটে হামলা করছে। প্রকাশ্য গুলি ছুড়ছে। আর দৃশ্য ভেসে বেড়াচ্ছে নেট দুনিয়ায়। এমন ঘটনায় ফের আতঙ্ক নগরীর পূর্ব অংশে। তবে ঘটনার প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হলেও সাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভয়ঙ্কর সাজনের মাথার ওপর রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছায়াও। আহমদ উদ্দিন সাজন সিলেট ছাত্রলীগের রঞ্জিত গ্রুপের নেতা। কোনো পদপদবি না থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে এসে সে ছিল জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের টাকার মেশিন। ব্যবয়াসীরা জানান, সাজন হচ্ছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুলের ‘ক্যাডার’। নগরের পূর্ব অংশ নিয়ন্ত্রণ করতো তার ভাগিনা রকি, পঙ্কি। তাদের পাশ কাটিয়ে নাজমুল একান্তজন সাজনকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে অপরাধ জগৎ। চোরাচালানের পণ্য, পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি করতো সে। একইসঙ্গে নগরের শাহপরান, খাদিমের বিসিক শিল্পনগরী, শাহপরান থেকে বটেশ্বর পর্যন্ত পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রক ছিল সে। তখন প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে মহড়া দিতো। মাসে অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজি করতো। পুলিশও ছিল তার হাতের মুঠোয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর জনতার রোষানল থেকে বাঁচতে সাজন গা ঢাকা দিলেও এলাকায় ছিল। কয়েক মাস ধরে সে প্রকাশ্যে। পূর্বের মতো নগরের পূর্বাঞ্চলে আধিপত্য গড়তে এবার শেল্টার নিচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতার। তাদের শেল্টারে সে ওই এলাকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। এখন পুরোদমে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে তার। ঈদের পর থেকে চোখ দেয় বিসিক শিল্প নগরী দখলে। গণ-অভ্যুত্থানের পর হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে সাজন তার আরেক সহযোগী চিহ্নিত অপরাধী সাব্বিরকে দিয়ে চেষ্টা চালায়। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পার্শ¦বর্তী রুস্তুমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আলাই ও তার স্বজনরা। বিসিকের পাশে রয়েছে আলাই মার্কেট।

মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর থেকে সাজন ও সাব্বির মিলে হানা দেয় বিসিকে। তারা চাঁদাবাজি শুরু করে। গত ৯ই এপ্রিল সাজন, সাব্বিরসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সাব্বির গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় শাহপরান থানায় পাল্টাপাল্টি এজাহার দাখিল করলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ সাব্বিরের পক্ষে মামলা গ্রহণ করে। পরে অবশ্য নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে অপর পক্ষের মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলায় ব্যবসায়ীরাও আসামি হন। একইসঙ্গে রুস্তুমপুর বিসিকের পার্শ্ববর্তী আলাই মার্কেটের মালিক আলাউদ্দিন ও তার স্বজনদের আসামি করা হয়। মামলার কারণে ব্যবসায়ীরা যখন এলাকা ছাড়া তখন ১৩ই এপ্রিল রাতে সাজন ও আলীসহ কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় বিসিক এলাকা, আলাই মার্কেট ও রুস্তুমপুরে হামলা চালায়। হামলার শুরুতেই তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। একপর্যায়ে তারা আলাই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ও মার্কেটের মালিক আলাউদ্দিন আলাইয়ের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর ছাড়াও ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় শাহপরান থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক আইন এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কামরান আহমদ ও জমির আলী দু’টি মামলা করেন। এর আগে সাজু সিংহ নামে এ ব্যবসায়ী আরও একটি মামলা করেন। তিনটি মামলায়ই আসামি করা হয়েছে সাজনকে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত পুলিশ সাজন, আলী, সুজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সিলেট সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হোসেন সোহাগ জানান, সাজন দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। তার অপকর্মের শেষ নেই। বর্তমান সময়ে এসে সে কীভাবে অপকর্ম করে? প্রকাশ্য গুলি ছুড়লেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তিনি বলেন, আলাই মার্কেট ও রুস্তুমপুরে প্রকাশ্য গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাজন ও তার চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় স্বস্তি ফিরবে না এবং তাদের শেল্টারদাতাদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

শাহপরান থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ জানান, যে চারটি মামলা হয়েছে ওইসব মামলায় সাব্বিরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধী সাজনকে পুলিশ খুঁজছে। অস্ত্র উদ্ধারেও পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি। এদিকে ঘটনার পর আলাই মার্কেট ও রুস্তুমপুর গ্রামের শত বছরের ব্যবহৃত যাতায়াতের সড়কে ব্যারিকেড নিয়ে ক্ষোভ জানান আলাই মার্কেটের স্বত্বাধিকারী আলাউদ্দিন আলাই।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৪-২৪ ০৭:১০:১০