সিলেটে ফাঁদে ফেলে হানিট্র্যাপ-এর মাধ্যমে চাঁদাবাজির ঘটনায় এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
বুধবার (০৬ মে) দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সিলেটের শাহপরান থানার মিরেরচক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন বকুল আহমদ জিহাদ (৩০)। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার তুরুকবাগ এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জের বাদে রণকেলী এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জেসমিন আক্তারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চলতে থাকে।
গত ৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে ভিকটিম তার এক বন্ধুকে নিয়ে সিলেট নগরের কোতোয়ালী থানার যতরপুর এলাকার একটি বাসায় জেসমিন আক্তারের সঙ্গে দেখা করতে যান।
সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েকজন ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে ভিকটিম ও তার বন্ধুকে জিম্মি করে।
এ সময় তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। পরে জোরপূর্বক তাদের কাপড় খুলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়।
অভিযুক্তরা ভিকটিমদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা, একটি রূপার চেইন ও একটি রূপার ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেয়।
পরে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। মান-সম্মানের ভয়ে ভিকটিম পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের দেন।
এ ঘটনায় ভিকটিম কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি বকুল আহমদ জিহাদকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই মামলার আরও একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৯।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




















