* মালিক সমিতির অফিস ও গাড়ি ভাংচুর ক্ষতি তিন কোটি টাকা। * শ্রমিক দেলওয়ার মৃত্যুশয্যাশাহি। * শ্রমিক নেতা মইনুল আ'লীগ এর প্রভাবশালী মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের ঘনিষ্টজন।

সিলেটে বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষে রিপন হত্যা *মইনুল-রাজনসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা*

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০৫/২০২৬ ০২:১০:২১ PM

Share
41

সিলেট নগরীর কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরত্বর আহত শ্রমিক রিপন আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২ মে) মারাযান। এ ঘটনায় বুধবার (৬ মে)  নিহতের বাবা গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের মৃত জাবিদ আলীর ছেলে ছাবলু মিয়া বাদী হয়ে ভাংচুর, মারপিট, হত্যা ঘটনায় শ্রমিক নেতা মইনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নামে দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা ( নং ০৬, তারিখ ০৬/০৬/২৬ ইং) দাখিল করেছেন।

এ মামলা আরও ৬০ জনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানা সূত্র।

মামলার এজাহারের অন্যান্য আসামিরা হলেন, নগরীর কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আলাউদ্দিন সদাগরের ছেলে ও শ্রমিক নেতা আলী আকবর রাজন (৩৬), দক্ষিণ সুরমা থানার আহমদপুরের আছাব আলীর ছেলে মিলাদ আহমদ রিয়াজ (৪২), মোগলাবাজার থানার সুলতানপুর গ্রামের মৃত করিম মিয়ার ছেলে রিয়াজ মিয়া (৬৫),দক্ষিণ সুরমা আহমদপুর গ্রামের ইলিয়াছ আলী (৪৬), সিলামের রজাক আলীর ছেলে আব্দুস সহিদ (৪২),  জকিগঞ্জের কেছরি গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে সামছুল হক মানিক (৫৬), দক্ষিণ সুরমা ঝালোপাড়ার হাসিমুখ আলীর ছেলে তাজ উদ্দিন তায়েছ (৪৫), মোগলাবাজারের সুলতানপুরের করিম আলীর ছেলে তাহির আলী(৫০), হবিগঞ্জের দরিয়াপুর গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে আলী আহমদ তপু (৫২), দক্ষিণ সুরমা গোটাটিকর এলাকার সজিবুর রহমানের ছেলে ফারুক আহমদ রাজা (৩৮),  ভার্থখলার আপিল উদ্দিন মস্তানের ছেলে জিতু মিয়া (৪৬), কদমতলী শতাব্দী বিল্ডিং এর বাসিন্দা মৃত ফুল মিয়ার ছেলে ধনু মিয়া (৪৫),
কৃতিপুরের জহির আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম মনির (৪৫), বিশ্বনাথের রজবপুরের আওলাদ আলীর ছেলে ইবন মিয়া (৪৫), দক্ষিণ সুরমা রশিদপুরের সোনাফর আলীর ছেলে ছনু মিয়া (৪৫), আহমদপুরের রমজান আলীর ছেলে সমসর আলী (৪৭),  শাহপরাণ (রহ.) থানার আব্দুল জলিলের ছেলে কামাল মিয়া (৪৮),  ছাদেক আহমদ (৩৫), দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ার হাসিম আলীর ছেলে সাজ উদ্দিন (৪৫), লালাবাজারের নুর মিয়া উরফে সাপুড়িয়া (৬০), আহমদপুর (শমসের এর বাড়ীর মাছুম আহমদ (৪০), বিয়ানীবাজারের এতিমখানি গ্রামের মৃত মতু মিয়ার ছেলে আব্দুল বাছিত বাছা (৫৫), বিশ্বনাথ বৈরাগিবাজার নদার গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে জুবেল আহমদ (৩৮),  আলী হোসেনের ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৪০), কারিকোনা গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৪৮), বৈরাগিবাজার মোতারাই পাড়ার মকবুল হোসেনের ছেলে নাছির আহমদ (৪৬), দক্ষিণ সুরমা রশিদপুরের সুনু মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (৬০), পিতা-মৃত সুনু মিয়া, সাং- রশিদপুর, থানা- দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথের রজাকপুর গ্রামের আওলাদ আলীর ছেলে শামীম আহমদ (৪০)।

নিহত বাস শ্রমিক রিপন আহমদ এর পিতা ছাবলু মিয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, এজাহার নামীয়রা খারাপ, চাঁদাবাজ, দাঙ্গাবাজ, লাঠিয়াল ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। আর  বিবাদী মইনুল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সক্রিয় একজন কর্মী। বিগত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের ঘনিষ্ট সহচর। ওনার ছেলে রিপন আহমদ (৩২) সিলেট টু জকিগঞ্জ লাইনের মিনি বাসের হেল্পার। এছাড়াও মামলার আসামিরা সিলেট কদমতলীতে অবস্থিত বাস টার্মিনালে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে এবং তাহাদের কোন গাড়ী না থাকা স্বত্বেও তারা জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ লাইনের গাড়ী হতে অবৈধ ভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁদা আদায় করে আসছে। উক্ত বিষয় নিয়ে মালিক সমিতির সাথে বিবাদীদের বিরোধ দেখা দেয়। যা জেলা, কেন্দ্রীয় মালিক সমিতি স্থানীয় ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। এসময় রিপন আহমদ সিলেট জেলা মালিক সমিতির অফিসের সম্মুখে রাস্তার উপর ছিলেন। হঠাৎ করে বিকাল অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার সময় উপরোক্ত আসামিরা অজ্ঞাতনামাসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে হামলা করে। এসময় রিপকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। তখন রিপকে বাঁচতে অনন্যারা এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এ মারপিটের কারনে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক শ্রমিক এখনো হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায়শাহি।

পরবর্তীতে আসামিরা বাস টার্মিনালে থাকা বিভিন্ন কোম্পানীর বাস, মালিক সমিতির অফিস ভাংচুর করে অনুমান প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে। পরবর্তীতে  উপস্থিত লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (২ মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপন মৃত্যুবরণ করেন। 
তিনি মামলায় আরো উল্লেখ্য করেন,তার ছেলেকে অজ্ঞাত লোকজন চিকিৎসায় নিয়ে যাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করে ভুলবশতঃ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে  ছেলের নাম রিপন আহমদ এর স্থলে ইমরান আহমদ, পিতা- ছালেক আহমদ হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করে।  ছেলে মৃত্যুবরণ করার পর পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতঃ লাশ ময়না তদন্ত শেষে তাদের নিকট হস্তান্তর করেন। ছেলের লাশ দাফন-কাপন সম্পূর্ণ করে থানায় অভিযোগ দায়েরে বিলম্ব হয় ।


এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুজ্জামান জানান, নিহত রিপন এর বাবার এজাহার প্রাপ্ত হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা (নং ৬(০৬)২৬) রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে ।

প্রসঙ্গত ::গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল । সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত শ্রমিকরা কয়েকটি বাস ও টিকিট কাউন্টারে ভাঙচুর চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত চারজন শ্রমিক আহত হন বলে জানা যায়। দিনব্যাপী সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। পরবর্তীতে বিকাল ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সুলতান সুমন

সুলতান সুমন

প্রকাশ: ২০২৬-০৫-০৭ ১৪:১০:২১