সিলেটে ৭০ বস্তা জিরার দাবিদার সেই আব্দুস সাত্তার সালেহ মিন্টু ধরাছোঁয়ার বাহিরে

  • প্রকাশের সময় : ১৭/০৫/২০২৬ ০৩:২৭:৪৮ PM

Share
24

ভারতে এক কেজি জিরার মূল্য ৩৪৮ টাকা। বাংলাদেশে এই জিরার মূল্য প্রায় দ্বিগুণ। ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জিরার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়  সিলেটে প্রতিদিনই চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ধরা পড়ছে ভারতীয় চোরাই জিরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মালিকবিহীন অবস্থায় চোরাই জিরার চালান ধরলেও চোরাচালানি থামছে না।

এর মধ্যে একটি ঘটনা কৌতূহল ছড়িয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে জিরার চালান একটি পার্সেল প্রতিষ্ঠানে পৌঁছালে সেখান থেকে জনতা ধরে পুলিশে দেন মালিকসহ জিরার চালান। কিন্তু পুলিশ চোরাই জিরার মালিককে ছেড়ে দিয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করছে।

শনিবার (১৬ মে) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাড়ে ১০ লাখ টাকার চোরাই জিরা ধরা পড়ার ঘটনাটি জানায়। তবে এ-সংক্রান্ত মামলায় আসামি অজ্ঞাত রেখেছে। চোরাই জিরার মালিক অধরা থাকার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশে দামের তারতম্যে জিরার চোরাচালানির ‘জোয়ার’ থামছে না বলে জানিয়েছেন ওই ঘটনাটি ধরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সিলেট সীমান্ত এলাকায় জব্দ করা এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্যও রয়েছে ভারতীয় জিরা। সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকা সোনালীচেলা, বাংলাবাজার, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, কালাসাদেক এবং পান্থুমাই বিওপি এলাকায় পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভারতীয় জিরা, গরু, চিনি, বিড়ি, কম্বল, মেডিসিন, মদ এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে চা-পাতাসহ বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়। এ মালামালের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে, রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে বেপরোয়া গতিতে একটি মালবাহী পিকআপ নগরীর নাইওরপুল পয়েন্ট অতিক্রম করতে গিয়ে দুজন পথচারীকে ধাক্কা দেয়। বেপরোয়া গতির পিকআপটির গতিবিধি লক্ষ্য করেন স্থানীয় লোকজন। নাইওরপুল পয়েন্ট অতিক্রম করে জিন্দাবাজার সড়কমুখী হয়ে এসএ পরিবহনের সীমানা প্রাচীরের অভ্যন্তরে পিকআপটি ঢুকলে চালককে আটকাতেই বাধা হয়ে আসেন অনেকে। তখন দেখা যায় পিকআপটিতে ভারতীয় ৭০ বস্তা জিরা। সীমান্তে চোরাইপথে ভারত থেকে আসা জিরার চালান অবলীলায় নগরীতে ঢুকে পিকআপ যোগে। উপস্থিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ধাওয়া করা গাড়িটি আটক করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পিকআপচালক কৌশলে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শিপলু চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় জিরার চালানটি ছাড়াতে আসেন এমন সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আব্দুস সাত্তার সালেহ মিন্টু নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি দাবি করেন, জিরার এই চালানটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং তিনি আদালত থেকে নিলামের মাধ্যমে এই জিরা ক্রয় করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকদের সামনে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করে তিনি তখন দম্ভের সঙ্গে জানান, যত ‘বুঙ্গার মাল (চোরাচালান) আটক হয়, তিনি নিলামে নিয়ে তাৎক্ষণিক বিক্রি করে দেন। ওই জিরার চালান গত ৭ তারিখে শাহপরাণ থানা থেকে নিলামে ওঠায় তিনি নিয়েছিলেন দাবি করেন। তবে উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতা জিরার চালানটি পুলিশের হাতে তুলে দিলে জব্দ করে কোতোয়ালি থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

গতকাল এ ঘটনায় পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলার বিষয়টি জানানোয় ঘটনাটি ফের আলোচনায় আসে। চোরাই জিরার মালিক দাবিদার থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘ওই লোকটি পরবর্তী সময় জিরার মালিকানার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। জিরার মালিক দাবি থেকেও তিনি সরে যান। এ জন্য তাকে আর আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে প্রমাণ পেলে আসামি করা হবে।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৫-১৭ ১৫:২৭:৪৮