সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে শামস উদ্দিন কালা ওরফে শ্যামকালা। ফলে সীমান্তের বাসিন্দারা সব সময় উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন। শ্যামকালার চোরাচালান ও লাইনম্যান বাণিজ্যই মূলত সীমান্ত উত্তজনাসহ সকল অঘটনের মূল কারণ। থানা পুলিশ, ওসি ডিবির আশকারায় চোরাই বাণিজ্যের গডফাদার হয়ে ওঠেছে এই শ্যামকালা।
গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে গত সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত গোলাগুলির ঘটনার নেপথ্য নায়ক এই শ্যামকালা। তার বাড়ি সীমান্তের হাতিরখাল গ্রামে। এই শ্যাম কালাই সীমান্তের চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সোনারহাট সীমান্ত দিয়ে শ্যাম কালার একটি চক্র ভারতীয় ৫ টি চোরাই মোটরসাইকেল বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করছিল। এ সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্যাম কালার সশস্ত্র লাঠিয়াল বাহিনী বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে, দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা এবং আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর এই সংঘর্ষের মূলহোতা শ্যাম কালা হলেও সে এখনো রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যাম কালা শুধু একজন চোরাকারবারীই নয়, বরং সিলেট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও স্থানীয় থানার কয়েকজন কর্মকর্তার বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের মূল কারিগর ও টাকার মেশিন।
সিলেট জেলা ডিবির সাবেক ওসি রেফায়েত ও ইকবালকে কোটিপতি বানানোর পেছনে মূল ভূমিকা ছিল এই শ্যাম কালার। এছাড়া গোয়াইনঘাট থানার সাবেক ওসি রফিকুল ইসলামের শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের পেছনেও তার সিন্ডিকেটের হাত ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সাবেক কর্মকর্তাদের বিদায়ের পর বর্তমান জেলা ডিবির দুই ওসি আনোয়ার ও আসরাফ এবং গোয়াইনঘাট থানার বর্তমান ওসিও একই পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ওসিদের মতো দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার আশায় তারা শ্যাম কালাকে টাকার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরোক্ষ ছত্রছায়ায় শ্যাম কালা সীমান্তে তার সাম্রাজ্য আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
চোরাকারবারীদের কারণে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। পুলিশ ও ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশকারা পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনও তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
সোনারহাট সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, শ্যাম কালা ও তার পেছনের মদদদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা না নিলে সীমান্ত অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।




















