সিলেট জেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ কাজে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে অবস্থিত পুকুরটি থেকে অবৈধ প্রতিবন্ধকতা ও স্থাপনা অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য রুল জারি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী খায়রুল আলম।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “বিষয়টি শুনে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে তফসিলি জমির উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন এবং জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে নির্মাণ কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
“প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ জনস্বার্থের পরিপন্থী। পুকুর ও জলাভূমি সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আইনজীবী খায়রুল আলম বলেন, “এই সম্পত্তিটি মূলত প্রখ্যাত জমিদার কালীপ্রসাদ দত্ত চৌধুরী স্থানীয় জনগণের কল্যাণের জন্য দান করেছিলেন। যেখানে পরবর্তীকালে সরকার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, পুকুর, ডাকবাংলো ও সরকারি কোয়াটার নির্মাণ করে।”
আইনজীবী খায়রুল বলেন, “২০২১ সালেও জেলা পরিষদ এই জায়গাতে মাকের্ট নির্মাণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের বাধার কারণে পারেনি।
“কিন্তু বর্তমানে ওইখানে আবার মাকের্ট নিমার্ণ কাজ শুরু করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি জনস্বার্থে রিট আবেদন করি।”
তিনি বলেন, “বুধবার সেই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ কাজ যেরকম আছে সেভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং তফসিলভুক্ত জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
“বুধবার বিকালে হাইকোর্টের দেওয়া নিদের্শনা আমি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি ও ইমেইল করেছি।”
এই বিষয়ে সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ বলেন, “জায়গাটি জেলা পরিষদের নিজস্ব জায়গা, ডাকবাংলোর বাউন্ডারির ভেতরে। জেলা পরিষদ ওই জায়গাতে মাকের্ট নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার জন্য টেন্ডার নোটিশের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “হাইকোর্টের আদেশ বিষয়ে শুনেছি। তবে অফিসিয়ালি কোনো কাগজ এখনও আমাদের কাছে আসেনি, কাগজ আসার পর সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”




















