সিলেট থেকে কেনা তিনটি কুরবানির গরু চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন এক ব্যবসায়ী। গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এলাকায় পিকআপের গতিরোধ করে গরুগুলো ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পরে রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকৃত তিনটি গরুই উদ্ধার করেছে বংশাল থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২০ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকা থেকে তিনটি গরু নিয়ে একটি পিকআপ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঈদ উপলক্ষে বিশেষভাবে পছন্দ করে গরুগুলো কেনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পুরো পথে নিরাপদে পৌঁছানোর আশায় গাড়িটি মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে পরদিন বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানাধীন ধনাশী এলাকায় পৌঁছালে ৩ থেকে ৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পিকআপটির গতিরোধ করে। এ সময় তারা চালক ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তিনটি গরু ছিনিয়ে নেয় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পক্ষ নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বংশাল থানাধীন আগা সাদেক রোড এলাকায় একটি মাংসের দোকানে অভিযান চালায় বংশাল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম।
শনিবার (২৩ মে) পরিচালিত ওই অভিযানে ছিনতাইকৃত তিনটি গরু উদ্ধার করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে গরুগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শখ করে কেনা কুরবানির গরু ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গরুর মালিক। তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গরুগুলো ফিরে পাব এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। পুলিশের আন্তরিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আমার বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ছিনতাই হওয়া গরু উদ্ধারে বংশাল থানা পুলিশ দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















