র্যাব সদস্য ইমন আচার্য খুনের ঘটনায় টনক নড়েছে সিলেটের র্যাব ও পুলিশের। নগরীর ব্যস্ততম ক্বিন ব্রিজ এলাকায় এত বড় ঘটনা। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়? ইমন আচার্য খুনের ঘটনায় র্যাবও দিয়েছে নজর। চোখ রাখা হচ্ছে নগরের চিহ্নিত আস্তানায়ও। কিন্তু ব্রিজের নিচের সারদা হল, আলী আমজাদের ঘড়ি পুরো এলাকাই সব সময় থাকে অপরাধীদের দখলে। মাদকসেবন ও বিক্রি ছিনতাইকারীদের আড্ডা, অসামাজিক কাজ সবই চলে এখানে। অথচ এই এলাকাটি হচ্ছে নগরের অন্যতম ভিআইপি জোন।
কোতোয়ালি থানার প্রবেশমুখও এটি। র্যাব সদস্য সুমন আচার্য খুনের ঘটনার পর অপরাধ জোন ওই আস্তানাকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজিয়েছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্প। গত শনিবার ওই ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন- ক্বিন ব্রিজের নিচের ওই অংশটিতে যাতে কোনো অপরাধী বসতে না পারে সে কারণে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। ক্যাম্পে সব সময় পুলিশ থাকে। তারা টহলও দেয়। তিনি বলেন- আপাতত অস্থায়ী ভিত্তিতে ওই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় ক্যাম্প বসানো হবে বলে জানান তিনি।
সিলেটের অপরাধ জোন দক্ষিণ সুরমা। এরই মধ্যে ঘটে গেছে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। নগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসাইনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও টাকার কোনো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- দক্ষিণ সুরমায় কয়েকটি চিহ্নিত অপরাধ আস্তানা রয়েছে। এসব আস্তানা হচ্ছে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য। নগরীর অধিকাংশ অপরাধ ঘটনার মূলহোতারা ওই সব আস্তানায় বসে নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশের অভিযান শুরু হলে তারা গা ঢাকা দেয়। এ ছাড়া কুমারগাঁও তেমুখী, টিলাগড়, শাহপরানসহ কয়েকটি এলাকায় অপরাধ আস্তানা রয়েছে। নগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- সিলেটে অপরাধী ধরপাকড় চলছে। নগরীর ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনশ’র বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে গত দুই মাসে হাজারের বেশি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব সদস্য ইমন হত্যার ঘটনার পর পুলিশ অপরাধ আস্তানায় নজরদারি বাড়িয়েছে। অনেক ঘটনার পেছনে থাকে মাদক সিন্ডিকেট। ফলে মাদক বেচা-বিক্রির স্থানগুলোতেও পুলিশের নজরদারি রয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম জানিয়েছেন- ঈদকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। নগর জুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে ইমন খুনের ঘটনায় র্যাব-৯’র পক্ষ থেকে নগরে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। ক্বিন ব্রিজের মতো যেসব জায়গা অপরাধ আস্তানা সেসব এলাকায় র্যাব সদস্যরা ব্লক রেইড চালাচ্ছেন।
এরই মধ্যে র্যাব কয়েকটি অপরাধ আস্তানায় র্যাব অভিযান চালিয়েছে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। রোববার নগরের প্রধান পশুর হাট কাজির বাজার পরিদর্শনে আসেন র্যাব-৯’র সিও উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- সিলেট নগরেও র্যাবের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধী ধরতে অভিযানও চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন- মাদকসেবীরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এটি একটি কঠিন বাস্তবতা। এই অবস্থায় অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে সিলেটে সফরকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন- দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সম্প্রতি সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




















