বিয়ানীবাজারে ঈদের পর মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের সবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হলেও প্রতিটি ঘটনাই রহস্যঘেরা। এসব ঘটনায় পুলিশ ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা যায়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে বিয়ানীবাজারের লাউতা ইউনিয়নের বারইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের কবরস্থান থেকে এক সিএনজি অটোরিকশাচালকের ঝুলন্ত্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার দু’পায়ে দড়ি বাঁধা ছিল। শামীম আহমদ ধনু (৪৭) নামের ওই ব্যক্তি স্থানীয় শুক্কুর আলীর ছেলে।
রোববার রাত ১০টার দিকে গ্যারেজে তার চালিত সিএনজি অটোরিকশা রেখে বাড়ি ফিরেন তিনি। বাড়িতে রাতের খাবার শেষে বেরিয়ে গেলে সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। শামীমের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেলেও পা দু’টি দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকায় এটি হত্যাকাণ্ড কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে রোববার দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার খাসাড়িপাড়ায় পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় নিজ বসতঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সাদিকুল ইসলাম রুপক (২৭) নামের অপর আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আব্দুল মুক্তাদিরের ছেলে। তার মরদেহ উদ্ধারের সময় হাত দু’টি পিঠ মোড়া অবস্থায় বাঁধা ছিল।
নিহতের মামাতো ভাই বদরুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকালে রুপকের মা-বোন ও স্ত্রী অন্যত্র বেড়াতে যান। রাতে রুপকও যাওয়ার কথা ছিল। ফোন না ধরায় রোববার তিনটার দিকে বাড়িতে আসেন তার মা, স্ত্রী ও বোন। বসতঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। তারা তালা খুলে ঝুলন্ত অবস্থায় রুপককে দেখে স্বজনদের খবর দেন। স্বজনদের দাবি, পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় কীভাবে সে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকবে। নিশ্চয় কেউ তাকে খুন করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। অপরদিকে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তাওহীদা জান্নাত (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি পশ্চিম মাথিউরা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে।
প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। আত্মহত্যার প্ররোচনায় স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে। বিষয়টি ধামাচাপ দিতে টাকা-পয়সা নিয়ে সমাজপতিরা ব্যাপক তোড়জোড় করছেন। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানান, প্রতিটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে না। হত্যা না আত্মহত্যা তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















