২ বছরেও কাজ শুরু হয়নি, তবু সাশ্রয় ৬০০ কোটি টাকা

  • প্রকাশের সময় : ০৪/০৬/২০২৬ ০৩:৩৫:৩৭ PM

Share
9

বাংলাদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি প্রায় নিয়মিত ঘটনা। তবে, সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের দুই বছর পরও মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু না হলেও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পাওয়ায় নির্মাণ ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির পূর্তকাজের জন্য ২ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে, একই কাজের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দরপত্র মূল্যায়নে সর্বনিম্ন দরদাতাদের নির্বাচন এবং প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়ার ফলে প্রায় ২০ শতাংশ কম ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে, অনুমোদনের পর নানা প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কারণে এখনো মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ তিনটি পৃথক লটে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি লটের জন্য মোট ৪৭টি প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের নির্বাচন করা হয়।

প্রথম লটের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের মনিকো লিমিটেড ও চীনের চায়না রেলওয়ে নম্বর ফোর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। এ লটের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৬ টাকা। দ্বিতীয় লটের কাজ বাস্তবায়ন করবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন, যার চুক্তিমূল্য ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকা। তৃতীয় লটের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের এনডিই এবং চীনের আরবিসিজির যৌথ উদ্যোগ। এ অংশের কাজের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৪৭ দশমিক ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এছাড়া ৪২ দশমিক ৮০ লাখ ঘনফুট মাটির কাজ, প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ এবং ১ হাজার ৫৭৫ জন-মাস পরামর্শক সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্মাণ করা হবে ৩১টি কালভার্ট, তিনটি সেতু, তিনটি ফ্লাইওভার, ছয়টি ওভারপাস, পাঁচটি আন্ডারপাস, চারটি ফুটওভার ব্রিজ, সাতটি পথচারী পারাপার সুবিধা এবং একটি টোল প্লাজা। চার লেন মহাসড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সার্ভিস লেনও থাকবে।

প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি পৃথক ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রানাপিং ও রামধা বাজার এলাকাতেও আরো দুটি ছোট ফ্লাইওভার নির্মিত হবে। এছাড়া, কুশিয়ারা নদীর ওপর বিদ্যমান শেওলা সেতুর পাশে নতুন চার লেনের একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

বুধবার (৩ জুন) সিলেট-চারখাই-শেওলা চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত বলেন, “আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু গত দুই বছরে কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবকাঠামোগত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”

অন্যদিকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্বের কথা স্বীকার করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম। তিনি বলেন, “সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং আগামী আগস্টের আগেই ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশা করছি।”


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-০৪ ১৫:৩৫:৩৭