সিলেট নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উপশহরে আবারও ফিরতে শুরু করেছে পুরনো আতঙ্ক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন সিসিক ২২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সালেহ আহমদ সেলিমের ছত্রছায়ায় যুবলীগ ক্যাডার এইচ আর সুমন ওরফে ‘ডেভিল সুমন’ এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন এবং এলাকায় প্রকাশ্য বিচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে উপশহর এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছিল এইচ আর সুমন। এই অভিজাত এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিয়মিত চাঁদা তোলাই ছিল তার মূল কাজ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী কেউই তার হাত থেকে রেহাই পায়নি। বাসা দখল থেকে শুরু করে দোকানকোটা, মাছবাজার থেকে সবজিবাজার, এমনকি নিরীহ ভ্যানগাড়ি ও রিকশাচালকদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা তুলতো এই যুবলীগ ক্যাডার।
উপশহরের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুমন সন্ত্রাসী খাটিয়ে আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক দোকান ভাড়া নেয়। গত ৩ বছর ধরে সে দোকানের কোনো ভাড়া দেয়নি। উল্টো আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দোকানকোঠা দখল করে রাখে।” সোহরাবের মতো এমন অসংখ্য ভুক্তভোগী রয়েছেন উপশহর এলাকায়, যারা সুমনের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডেভিল সুমনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর সে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি তাকে উপশহর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
আসামি হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সে এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরছে তা নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উপশহর ও শিবগঞ্জ এলাকার সুবিধাভোগী কয়েকজন যুবদল নেতা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ডেভিল সুমনকে এলাকায় ফিরিয়ে এনেছেন। ওই যুবদল নেতারা সুমনকে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করা এবং মামলা থেকে অব্যাহতি (খালাস) পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজেদের জিম্মায় এলাকায় ঘুরছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিহ্নিত এই চাঁদাবাজ ও মামলার আসামির প্রকাশ্য ঘোরাফেরায় উপশহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও যৌথ বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।



















