সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় ছালেকের নেতৃত্বে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। দিন রাত ২৪ ঘণ্টা চলে এই জুয়ার আসরটি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার আসরে অভিযান চললেও ছালেকের এই জুয়ার আসরে অভিযান নেই প্রশাসনের। যার কারণে এসএমপির "কিং অব দ্যা জুয়াড়ী" ছালেকের জুয়ার ছুবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না এলাকার যুব সমাজ ও মেডিকেল কলেজে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা। এই জুয়ার আসর এর ফলে জুয়াড়িদের আনাগোনায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তেমনি জুয়াখেলার টাকা জোগাড় করতে এলাকার যুব সমাজ বিভিন্ন অপরাধ করছে। ছালেকের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে হাত থাকায় এলাকার কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করেনা, অন্যদিকে মেডিকেলে পড়তে আসা অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখায় মন না দিয়ে এই জুয়া খেলার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। যার কারনে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। পবিত্র মাহে রমজান মাসেও থেমে নেই ছালেকের তিন তাস নামক জুয়ার বোর্ড।
একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন মেডিকেল কলেজের পাশে জুয়ার আসর থাকায় আমাদের সহকর্মী অনেকেই পড়ালেখা বাদ দিয়ে জুয়া খেলার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন অভিযান চালানো হয় না। অভিযোগ রয়েছে জুয়াড়ী ছালেক নাকি হুমকি দেয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পক্ষকে মেনেজ করে জুয়ার আসর চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে সাবেক পুলিশ কমিশনারও বন্ধ করতে পারেননি তার জুয়ার আসরগুলো। ফলে সে নিরাপদে আছে। তবে থানার নতুন ওসি সাথে তার লোকজন কথা বলছেন আর ফাঁড়ির সাথে তার সাপ্তাহিক টাকার চুক্তি রয়েছে।
পাটানটুলা এলাকায় রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের পাশে শিপলুর কলোনীতে ছালেকের জুয়ার আসরটি বসানো হয়েছে। এই আসরে প্রশাসনের অভিযান না থাকায়, জুয়াড়ী ছালেক প্রশাসনের কোন কিছুর তোয়াক্কা করেনা। দিনে রাতে প্রকাশ্যে ছালেকের জুয়ার আসরে চার রকমের জুয়া খেলা চলে।
জানা যায় নগরীর বেতের বাজার থেকে বিতাড়িত "বিগ জুয়াড়ি শরিফ", লালা, সংঘবদ্ধ হয়েছেন ছালেক জুনেদ, কামালের সাথে পাটানটুলা এলাকায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিশাল এই জুয়ার বোর্ড গড়ে তুলেছেন।
সাবেক কমিশনার ও উত্তর ডিসির নির্দেশে চলতি বছরে নগরীর বেতের বাজার এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে কয়েকজন জুয়াড়ীদের আটক করা হয়। পণ্ড করে দেয়া হয় শরিফ ও লালা নামের জুয়াড়ীদের জুয়ার বোর্ড।
কিন্ত এসএমপি কমিশনার নিশারুল আরিফ বদলি হওয়ার পর সাথে-সাথে ঢাকঢোল বাজিয়ে আবার নতুন করে জুয়াড়িরা সংঘবদ্ধ হয়ে রাগীব রাবেয়া মেডিকেল এলাকায় শিপলুর কলোনিতে বসানো হয়েছে জুয়ার আসর। ছালেকের জুয়ার স্পটটি সিলেটের সব থেকে বড় জুয়ার স্পট নামে পরিচিত । একই স্থানে ২টি ঘরে চার প্রকারের জুয়া চলে। তীর জুয়া এবং ঝান্ডুমান্ডু নামক জুয়ার আসর চালায় প্রায় ৪ জন লোক। আর রাত গভির হলে ছালেকের নেতৃত্বে তিন তাস নামক জুয়ার আসর শুরু হয়। সারা রাত চলে তিন তাস জুয়া আর মাদক ব্যবসা। জুনেদের সর্বনাশা তির আর ছালেকের তিন তাসে মেডিকেলে আশা রোগীর স্বজনরা জরিয়ে পরছেন জুয়া খেলায় । জুয়ার নেশায় রোগীর ওষুধ কেনার টাকা খুইয়ে নিস্বঃ হয়ে দিক-বেদিক ছুটছেন তারা।
এদিকে পরিচয় গোপন করে ছালেকের লোকজন লালা, কামাল, জুনেদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, আমরা পুলিশের সকল এজেন্সিকে টাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করে আসছি। মিডিয়া অফিসার থেকে শুরু করে স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলি। পুলিশ প্রতি সপ্তাহে বড় অংকের টাকা নেয় বিনিময়ে আমাদের সব রকম সেল্টার দিচ্ছে। ফলে কখনও কোন অসুবিধা হয় না, তাই এই স্পটে পুলিশী অভিযানের কোন ভয় নেই।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















