এমদাদুর রহমান চৌধুরীর জিয়া : সিলেটের ওসমানীনগরে প্রেমিকের ধর্ষণে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণী। ওই তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন প্রেমিক জয়নাল।
এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণী প্রেমিক জয়নালের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শনিবার রাতে ওসমানীনগর থানা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক প্রেমিক জয়নালকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত জয়নাল উপজেলার তাজপুর ইউপির খাশিপাড়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে জয়নালের সঙ্গে একই উপজেলার গোয়ালাবাজারের ওই তরুণীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জয়নাল প্রায়ই তরুণীর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন।
জয়নাল তার প্রেমিক এই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তরুণী রাজি হয়ে যায়। একপর্যায়ে জয়নাল তার প্রেমিক তরুণীকে বিয়ে করার কথা বলে সিলেট শহরে নিয়ে আবাসিক হোটেলে উঠে। প্রেমিকা ওই তরুণী জয়নালকে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- উক্ত হোটেলে একটি রাত থাকতে হবে; এরপর কোর্টে গিয়ে বিয়ে করবে তারা। হোটেলে থাকা অবস্থায় ৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে জয়নাল তার প্রেমিকাকে বিয়ে করবে বলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
পর দিন জয়নাল কাজি অফিসে যাওয়ার বিষয়ে টালবাহানা শুরু করলে তরুণী তার বাসায় চলে আসে। পরবর্তীতে প্রেমিক জয়নাল প্রায়ই প্রেমিকার বাসায় আসা যাওয়া করতেন এবং তাকে বিয়ে করার বিষয়ে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করেন। এর মধ্যে ওই তরুণী শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করলে চিকিৎসকে দেখান। চিকিৎসক জানান- ওই তরুণী পাঁচ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি প্রেমিক জয়নালকে জানালে সে প্রেমিকার গর্ভে থাকা বাচ্চা নষ্ট করে ফেলতে বলেন এবং তাকে বিয়ে করবে না বলে জানান।
নিরুপায় হয়ে ওই তরুণী গত ১৯ মে দুপুরে জয়নালের খাশিপাড়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা সিরাজ মিয়াকে বিষয়টি অবগত করেন ওই তরুণী। জয়নালের পিতা সিরাজ মিয়া তরুণীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তার বাড়ি হতে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তরুণীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশ অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার ওসি মাছুদুল আমিন বলেন, অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা রুজু করে তার কথিত প্রেমিক জয়নালকে গ্রেফতার করে রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। ভুক্তভোগী তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসিতে) ভর্তি করা হয়েছে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















