*অনুদানের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে যাওয়ার পর মামলার কথা শুনতে পান তিনি বাদী* *৮ প্রবাসী ও ৬ সাংবাদিককে আসামি করা হয়*

সিলেটে আসামি চেনেন না বাদী!

  • প্রকাশের সময় : ২৬/১১/২০২৪ ০২:০৩:০১ AM

নিহত তারেক আহমদ

Share
41

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উল্লাস করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তারেক আহমদ (২৪)। তবে নিহতের ১৫ দিন পর বিয়ানীবাজার থানায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ও ১০০/২০০ জনকে অজ্ঞাত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তারেকের মা ইনারুন নেছা। তবে একদিন পরই আদালতে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন তিনি।

তবে আবেদনের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। যার ফলে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন ৬ সাংবাদিকসহ মামলায় অভিযুক্ত বাকিরা। নিহত তারেকের পরিবারের দাবি সরকারি সহায়তার কথা বলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যায় কে বা কারা। 

জানা যায়, মামলায় যে ৭৫ জনের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৮ জন প্রবাসী রয়েছেন । তারা হলেন- আব্দুস শুকুর (যুক্তরাজ্য), ফয়সল আহমদ ও ইকবাল হোসেন তারেক (যুক্তরাষ্ট্র), সাগর দাস (ফ্রান্স), কনক কান্তি (ইতালি), হুমায়ুন কবির, আহবাব হোসেন খান ও কামরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন থেকে কানাডায় বসবাস করছেন। এ ছাড়াও মামলায় বিয়ানীবাজার উপজেলার ৬ জন সাংবাদিকের নাম রয়েছে। 

হত্যা মামলা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন প্রয়াত তারেকের বড় ভাই লায়েক আহমেদ। তিনি  বলেন, এই মামলায় আমার মাকে বাদী দেখানো হলেও তিনি মামলার বিষয়বস্তু ও আসামি সম্পর্কে অবগত নন। এই মামলায় আমার মা বা পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে আসামি করা হয়নি । আমি নিজেও দেশের বাইরে ছিলাম। তারেকের মৃত্যুতে যখন আমাদের গোটা পরিবার বিপর্যস্থ তখন কে বা কারা আমার মাকে সরকারি সহায়তার কথা বলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। কিছুদিন পর মামলার বিষয়টি আমরা জানতে পারি। এ মামলায় আমাদের অনেক আত্মীয় স্বজনকেও আসামি করা হয়েছে ,যারা সবসময় আমাদের পরিবারের পাশে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এজাহারে যাদের নাম এসেছে তাদের অনেকেই আছেন যারা আমার ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। মামলা নিয়ে আমরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি । ২২ আগস্ট আমার মা মামলা প্রত্যাহার চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো জানতে পারিনি। 

নিহত তারেকের মা ইনারুন নেছা প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি। ছেলে হারিয়ে শোকে মাতম মামলার বিষয়ে কিছু জানি না কিছু লোক এসে সহায়তার কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি মামলা করে কাদের আসামি করা হয়েছে। আমরা চাই না কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তি হয়রানি শিকার হোক। তাই বিষয়টি জানতে পেরে আমরা আদালতে আপোসের জন্য নিষ্পত্তি জমা দেই। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার এসআই সাবুদ্দিন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


সিলেট প্রেস / ২৬ নভেম্বর ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২০২৪-১১-২৬ ০২:০৩:০১