আন্দোলনেও চেয়ার ছাড়েননি এসেসমেন্ট শাখার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা

  • প্রকাশের সময় : ১৭/০৬/২০২৬ ০২:১৮:৪৬ PM

Share
17

সিলেট সিটি করপোরেশনের এসেসমেন্ট ও কর আদায় শাখার দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এখনো স্বপদে বহাল।  এসেসমেন্ট শাখার প্রধান এসেসর মো. আব্দুল বাছিত,  এসেসর আকতার সিদ্দিকী বাবলু,  এসেসর কবির উদ্দিন চৌধুরী,  সহকারী কর কর্মকর্তা মো.  মাহবুব আলম সিন্ডিকেট করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিগত সময়ে অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। 

সিলেট সিটি করপোরেশনের সচিব আশিক নূরের নেতৃত্বে  গত ৪ জুলাই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অদ্যাবদী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এসব দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে  সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানব বন্ধন হলেও সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষের টনক নড়েনি। শোনা যায় সিটি করপোরেশনের সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি সচিবের কার্যালয়ে বসে দায়সারা তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তদন্ত কমিটির এক সদস্য তাদের দূর্নীতির পৃষ্ঠপোষক।

এছাড়াও তদন্ত কমিটি যাতে সঠিক দ্বায়িত্ব পালন করতে না পারে সেজন্য তারা বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। সেজন্য তদন্ত কমিটি দায়সারা তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন প্রস্তুত রয়েছে।তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত কোনো রির্পোট জমা দেয়নি। দশ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করার কথা থাকলেও  দূর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এদের বিরূদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটি প্রধান ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক সচিব আশিক নূর বদলি  হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শোনা যায় তিনি তদন্ত করার বদলে এদের রক্ষায় তৎপর ছিলেন।


সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান এসেসর মো.  আব্দুল বাছিত, এসেসর আকতার সিদ্দিকী বাবলু,  এসেসর কবির উদ্দিন চৌধুরী ও সহকারী কর কর্মকর্তা মাহবুব আলম স্বল্প বেতনে চাকরি করলেও অল্প সময়ের ভিতরে   তাদের বিপুল  বিত্ত ভৈবব নগরবাসীকে বিস্মিত করেছে।  নগরীতে তাদের বিশাল ভূসম্পত্তি,  বহুতল ভবনের চাক্ষুষ প্রমাণ থাকা স্বত্বেও সিলেট সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষের নিরবতা সবাইকে বিস্মিত করেছে।

সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর এপিএস শহীদ চৌধুরীর সাথে এ সিন্ডিকেটের দহরম মহরম সবার জানা। শহীদ চৌধুরীর সাথে মিলে কর কমিয়ে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব তছরুপ করে তারা হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এছাড়াও মাষ্টার রোলে নিয়োগ সহ বিভিন্ন কাজে অবৈধ অর্থ বানিজ্যে তারা ছিল তৎপর। 

এছাড়াও আব্দুল বাছিত ও আকতার সিদ্দিকী বাবলু সম্পর্কে  পরষ্পর শ্যালক বোনজামাই এবং বাছিতের আপন ভাতিজা একই শাখায় চাকরি করছে জেনেও তাদের বদলি করা হয়নি। একই শাখায় এসব দূর্নীতিবাজদের পরিবারতন্ত্র ও এলাকাতন্ত্র বহাল রেখে এদেরকে দূর্নীতি করতে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। সিলেট শহরে প্রাসাদসম বিলাশ বহুল বাড়ী সহ বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক এ সিন্ডিকেট।  স্বল্প বেতনে চাকরি করে তারা এসব সম্পত্তির মালিক কিভাবে হল তা নিয়ে সচেতন সিলেট নগরবাসী বিস্মিত হলেও সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষ এ বিসয়ে নির্বিকার।সচেতন মহল এদের খুটির জোর কোথায় তা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন।

সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক তার কার্যক্রমে সচেতন মহলের প্রশংসায় ভাসছেন। তারা মনে করেন প্রশাসক এখন এসব দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরূদ্ধে ব্যাবস্থা নিয়ে দূর্ণীতিমুক্ত সিটি  গঠনে উদ্যোগী হবেন।


সিলেট প্রেস / এস


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১৭ ১৪:১৮:৪৬