ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ নারী ব্যবসা চালিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দা রাজুর বিরুদ্ধে।
সুকৌশলে গড়ে তোলা তার এই অনৈতিক সিন্ডিকেটের খবর সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রাজু নিজেকে একজন রং মিস্ত্রি ও নির্মাণকাজের ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এই ঠিকাদারি পেশাকে কেবল একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। মূল আড়ালে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবৈধ নারী ব্যবসার একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। আর এই অপকর্মের মাধ্যমেই তিনি রাতারাতি লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রায়শই তাঁকে নিজের মোটরসাইকেলে বিভিন্ন নারীকে নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি রাজুর এই অনৈতিক সাম্রাজ্যের একটি বড় ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ে সিলেট নগরীর মাছিমপুর এলাকায়। মাছিমপুরের লিকনের ফিশারির সামনে এক নারীর সাথে আপত্তিকর ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা রাজুকে হাতেনাতে আটক করেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁকে আটক করেছিলেন বলে জানান।
এদিকে স্থানীয়দের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতে রাজু চতুরতার আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধরা খাওয়ার মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে তিনি নিজে ‘ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন’ বলে চারদিকে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করেন।
এলাকাবাসীর চরম অভিযোগ, ঠিকাদার পরিচয়ের আড়ালে রাজু মূলত একজন পেশাদার অপরাধী ও অনৈতিক সামাজিক ব্যাধির মূল হোতা। তার এসব অপকর্ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুবসমাজ যেমন বিপথগামী হচ্ছে, তেমনি সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এবং রাজুর অবৈধ আয়ের উৎস খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।




















