সিলেটে সোনারা বেগম হত্যা মামলায় স্বামীস্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডিতরা হলেন-সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফরফরা গ্রামের উমর আলীর ছেলে আব্দুল করিম (৪১) ও তার স্ত্রী শিরিনা বেগম (৩৩)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি রায়ে উভয়কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া পৃথক ধারায় আব্দুল করিম ও তার স্ত্রী শিরিনা বেগমকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অনাদায়ে আরো একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মামলার বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফরফরা গ্রামের মো. ওয়াহাব আলীর সঙ্গে সৎ ভাই আব্দুল করিমের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তাই ওয়াহাব ও তার স্ত্রী এবং তাদের পক্ষে থাকা প্রতিবেশি তেরাব আলীকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই জের ধরে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে মসজিদে ফজর নামাজ পড়ে ফেরার পথে তেরাব আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন আব্দুল করিম ও তার স্ত্রী।
তার আর্তচিৎকারে সোনারা বেগম বেরিয়ে ঘটনাটি দেখে প্রাণভয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিন্তু দণ্ডিত আব্দুল করিম স্বস্ত্রীক দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকলে পেছনে রান্না ঘরের দরজা দিয়ে সোনারা বেগম পালাতে গিয়ে হুচট খেয়ে পড়ে যান। তখন সৎ ভাইয়ের স্ত্রী সোনারা বেগমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন আব্দু করিম ও তার স্ত্রী শিরিনা বেগম।
ঘটনার পরদিন ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ছেলে জাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে জৈন্তপুর থানায় হত্যা মামলা (নং-২০(৯)২১) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার প্রাক্তণ উপ পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (নং-১৩০) দাখিল করেন। ২০২২ সালের ৬ অক্টোবর মামলাটি অত্র আদালতে বিচারের জন্য দায়রা ৯২৩/২২ মূলে রেকর্ড করা হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচারকার্য শুরু হয়। দীর্ঘ শোনানীকালে ২৩ জন সাক্ষির মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে স্বামী স্ত্রী পরস্পর যোগসাজসে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করায় বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অত্র আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন এবং আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আকমল খান।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















