সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ও পবিত্র হজরত শাহপরান (র.) মাজার শরিফ এলাকাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে দখল, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, মাজারের পবিত্র পরিবেশকে উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুরো এলাকাকে অনিয়মের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাজারের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও খোলা মাঠ দখল করে প্রকাশ্যে হকার বসানো হয়েছে। এতে ধর্মীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হকারের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয় এবং একটি চক্র খাদিম ও মোতওয়াল্লির সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে মাজারের পুকুরপাড় সংলগ্ন গরম বিবি হাউজিং এলাকার ভেতরে অবস্থিত শেখ কাবুল (র.)-এর মাজার কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, মাজারটি দখল করে অবৈধভাবে বসবাসকারীরা সেখানে মাদক ব্যবসা, গাঁজা বিক্রি, জুয়া, তীর খেলা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকাটি অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাজার এলাকায় দালালি, ছিনতাই, দর্শনার্থীদের হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নারী ও দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ পরিস্থিতিতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন ও অপরাধ বিচিত্রা সিলেট জেলা শাখা। সংগঠন দু’টি অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সিলেট জেলা প্রশাসন, পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




















