ওসমানীনগরে ভূয়া উত্তরাধিকারী সনদে নামজারি

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০২/২০২৪ ০৫:৫৬:০৫ AM

কারাগারে শিবির কর্মী মুরাদ

Share
71

সম্পত্তি আত্মসাতে পাঁচ ভাইবোনকে বাদ দিয়ে একাই উত্তরাধিকারী সনদ নেন সিলেটের ওসমানীনগরের মিনারা খাতুন। পৈত্রিক সম্পত্তি একাই আত্মসাতে ছেলে শিবির কর্মী মোজাক্কির আলী মুরাদকে নিয়ে ধোকা দিয়েছেন এসিল্যাণ্ড ও সাব রেজিস্ট্রারকেও।


চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে উত্তরাধিকারী সনদ নিয়ে প্রবাসী ভাই-বোনদের বাদ দিয়ে নিজ নামে ভূমির নামজারি করিয়ে নিয়েছেন মিনারা খাতুন। সেই ভূমি দানপত্রে দিয়েছেন ছেলে মোজাক্কির আলী মুরাদের নামে। অনিয়ম করতে গিয়ে প্রতিটি পদে পদে করেছেন জালিয়াতি।


এমন ভয়ঙ্কর প্রতারণার ঘটনায় জানতে পেরে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন মিনারা বেগমের ভাই-বোনেরা।


ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরের কামিনীকান্দি গ্রামে।


প্রবাসে থাকা তার বোন আমেনা খাতুনের আমোক্তার মতিন মিয়া বাদি হয়ে মিনারা বেগম ও তার ছেলে মোজাক্কির আলী মুরাদের বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মিনারা বেগম ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরের কামিনীকান্দি গ্রামের মরহুম ওয়াহীদ আলীর মেয়ে ও মকদ্দছ আলীর স্ত্রী।


এ ঘটনায় মিনারা খাতুনের ছেলে মোজাক্কির আলী মুরাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে তাকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়।


আমিনা খাতুনের আমোক্তার আব্দুল মতিনের অভিযোগে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৭ এপ্রিল ওয়াহীদ আলী ওরফে ওয়াহিদ উল্লাহ মারা যান। তার প্রথম স্ত্রীর একমাত্র সন্তান মিনারা বেগম। প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগমের মৃত্যুতে রহিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। মিনারা বেগমের তার পিতার ঔরসজাত দুই সৎ ভাই সায়েক উদ্দিন ও ইকবাল মিয়া, তিন বোন আমিনা খাতুন, হাজেরা খাতুন ও মিনারা বেগম।


এসব উত্তরাধিকারদের বঞ্চিত করে একক দাবিদার হিসেবে অনিয়মের সম্পদ নামজারি করিয়ে নেন তিনি। এই একটি অনিয়ম করতে গিয়ে একাধিক অনিয়ম করে বসেছেন তিনি। নিজেকে একক উত্তরাধিকার দেখান। এ কাজ করতে গিয়ে ২০২০ সালের ২ আগস্ট চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর বিহীন উত্তরাধিকার সনদ তৈরী করে সম্পত্তি নামজারি করিয়েছেন।


আরেকটি উত্তরাধিকার সনদ নিয়েছেন ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর। তাতে মিনারা বেগম উত্তরাধিকারীর স্থলে নিজের নামের সঙ্গে চাচাতো ভাই আনোয়ার আলী ও দিলোয়ার আলীকে উত্তরাধিকারী দেখান আলাদা কলামে।


২০২২ সালের ১২ অক্টোবর মিনারা বেগম তার ছেলে মোজাক্কির আলী মুরাদের নামে জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজাদি সৃজন করে নামজারিপূর্বক হেবা দলিলে (নং-২৩৮৮/২০২২) সম্পত্তি লিখে দেন। এসব ঘটনা বেরিয়ে আসে মোজাক্কির আলী মুরাদ যখন ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর জমি বিক্রি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখে শেয়ার দেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোজাক্কির আলী মুরাদের নামে ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর তাজপুর সাবরেজিস্ট্রারি অফিসে ২৩৮৮/’২২ হেবা দলিল সম্পাদন করা হয়। উপজেলার ইসলামপুর ১৭৬ মৌজার ১০৪সহ আরও অনেক দাগের ভূমির পরিমাণ ১,২০৫০ একর। এরপর ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি তফসিলী ভূমি এডিল্যান্ড থেকে নামজারি করে নেয় মুরাদ।


গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভূমি বিক্রির প্রচার করে মুরাদ। তা দেখে তাকে আমিনা খাতুনের আমোক্তার মতিন মিয়া জিজ্ঞাসা করলে মুরাদ অকথ্য গালিগালাজ করে। মুরাদের ফেসবুক ঘেটে দেখা যায়, তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পুক্ত রয়েছেন।


ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম রাশেদুল হক বলেন, জমি জাল-জালিয়াতির মামলায় মোজাক্কির আলী মুরাদকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনে তার রিমান্ড আবেদন করবেন।



সিলেট প্রেস / ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০২-০৭ ০৫:৫৬:০৫