পাথরবাহী একটি ট্রাক গত বছরের ১২ অক্টোবর সকালে ভোলাগঞ্জ থেকে বিশ্বনাথ যাচ্ছিল। সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের ইসলামপুরে ট্রাকটির গতিরোধ করে কয়েক যুবক। চালকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেই ফোন দিয়ে কল করা হয় পাথরের মালিকের কাছে। অভিযোগ ওঠে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বাধীন ১ লাখ টাকা দাবি করে ওই ফোন করেন।
বিকাশের মাধ্যমে তাঁকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ট্রাক ছাড়িয়ে নেন মালিক। পরে একই রাস্তার বর্ণী এলাকায় আবারও ট্রাকটি আটক করা হয়। সেখানেও স্বাধীনকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে রেহাই পান ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন রাজু। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেন তিনি। তবে নানাভাবে তাঁকে চাপ সৃষ্টি করায় ওইদিন রাতেই অভিযোগ তুলে নেন ওই ব্যবসায়ী।
গত ১১ জানুয়ারি সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে ট্রাকে সবজি নিয়ে পাইকারি বাজার সোবহানীঘাটে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন। ভোরে নগরীর প্রবেশমুখ মেজরটিলা এলাকায় ট্রাকটির গতিরোধ করে কয়েক যুবক। চোরাই পণ্য দাবি করে ৬ হাজার টাকা আদায় করে যুবকরা। এভাবে সিলেটে পণ্যবাহী ট্রাকে অহরহ চাঁদাবাজি চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে, তা তারা আগে কখনও দেখেননি।
গত ২৭ জানুয়ারি ভোরে প্রধান পাইকারি বাজার কালীঘাটে প্রবেশের সময় চিনিবাহী ট্রাক আটকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় কয়েকজন যুবক। পরে জানা যায়, যুবকরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সর্বশেষ ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সবজি আড়ত সোবহানীঘাটে ট্রাক নিয়ে পৌঁছার পর ১০-১২ জন চাঁদা দাবি করে জৈন্তাপুরের উমনপুরের বাসিন্দা সাব্বির আহমদের কাছে।
এভাবেই কখনও পাথরবাহী ট্রাক, কখনও চোরাই পণ্যবাহী ট্রাক, কখনও নিত্যপণ্য বহনকারী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি চলে আসছে গত কয়েক মাস ধরে। কখনও সিলেটের বিভিন্ন রাস্তায়, কখনও পাইকারি বাজার কালীঘাট ও সোবহানীঘাটে চাঁদাবাজি চলে।
বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে জানা গেছে , সিলেট ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপের কিছু নেতাকর্মী এসব চাঁদাবাজি ও ছিনতাই করে যাচ্ছে। তারা সিন্ডিকেট করে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় প্রতিদিন গভীর রাতে ও ভোরে বিভিন্ন সড়কে বেরিয়ে পড়ে। সুযোগ বুঝে কখনও চোরাই পণ্যবাহী, কখনও নিত্যপণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে ছোটে। সিলেট ছাত্রলীগের সভাপতি অবশ্য তাদের নেতাকর্মীর জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির শিকার হলেও তাদের নেতারা প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে একাধিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেন আড়তদারসহ ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার সিলেট চেম্বার, সিলেট ব্যবসায়ী সমিতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় পরিষদ, জেলা ট্রাক-পিকআপ, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, সিলেট ট্রেড সেন্টার ভেজিটেবল মার্কেট, নওয়াব আলী সবজি মার্কেটের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা মাঠে নামেন। ওই দিন চাঁদাবাজি বন্ধ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। বিক্ষোভ করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে।
জানা গেছে, সিলেটের বৃহত্তম পাইকারি বাজার কালীঘাট ও সবজি আড়ত সোবহানীঘাট থেকে বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ হয়ে থাকে। অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে চাঁদাবাজি হলেও সম্প্রতি তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ী ও চালকদের মারধর করে মালপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। টহলরত পুলিশও তাদের সহায়তা করে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।




















