সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. জাকির হোসেন খান বলেন, গত ৬ই ফেব্রুয়ারি পরিবহন শ্রমিকদের যে ঘটনা ঘটেছে সেটা সিলেটের সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান এবং সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। র্যাব আইনগত প্রক্রিয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে আলোচনা করা যেতো। কোনো আলাপ আলোচনা ছাড়া রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া উচিত হয়নি। বিষয়টি মহান জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি উপস্থিত শ্রমিক ও পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও শ্রমিক কল্যাণের নামে চাঁদা উত্তোলন করা যাবে না। এদিকে সভায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ওইদিনের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। দাবি করেন বিভিন্ন মামলায় শ্রমিকদের আসামি করা হয়েছে। তারা এসব মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন। জবাবে কমিশনার বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া নির্দোষ কার বিরুদ্ধে পুলিশ রিপোর্ট দেয়া হবে না।
গত শুক্রবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা হয়। এ সভায় সিলেটের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদাবাজি ও ছিনতাই বন্ধে কঠোর হলো সিলেট পুলিশ। চাঁদাবাজি করলে সন্ত্রাসী কিংবা পরিবহন শ্রমিক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। ইতিমধ্যে ট্রাক শ্রমিক ও মালিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন খান জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে শ্রমিক কল্যাণের নামেও চাঁদা আদায় করা যাবে না। এদিকে ব্যবসায়ীদের আল্টিমেটামের কারণে নগর এবং আশপাশ এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে নগরে সন্ত্রাসীদের ছিনতাই ও চাঁদাবাজি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তবে, ব্যবসায়ীদের দাবি- এটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। সামনে রমজান। এই সময়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়লে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে।
পরিবহন নেতৃবৃন্দ পুলিশ কমিশনারের কাছে বিভিন্ন এলাকায় জুয়া, মাদক ও অপরাধী কর্মকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে পুলিশ কমিশনার সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার জন্য মত প্রকাশ করেন। মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















