ফুটপাতের খাবার বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ; সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন

  • প্রকাশের সময় : ২৩/০৪/২০২৪ ০১:২৫:৪৪ AM

ছবি-সংগৃহীত

Share
75

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় শহরের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কের পাশে কিংবা ফুটপাথেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য খাবারের দোকান। স্ট্রিটফুড বা পথ-খাবার হিসেবে একদিকে সহজলভ্য অন্যদিকে সস্তা হওয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় এসব খাবার। রকমভেদে সমাজের সব শ্রেণির মানুষই খাচ্ছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর বেশিরভাগ পথ-খাবারেই নানা ধরনের জীবাণু রয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলবাড়িয়া মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট মোড় পর্যন্ত পঞ্চাশটির কাছাকাছি শরবতের দোকান। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জুস ও ঠান্ডা পানীয় বিক্রির ভ্রাম্যমাণ এসব দোকানির সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান একজন বিক্রেতা। লেবু, আখের রসসহ বিভিন্ন ফলের শরবত বিক্রি করেন তারা। প্রচণ্ড খরতাপ ও গরম আবহাওয়ার কারণে তৃষ্ণা মেটাতে পথচারী ও নিম্নবিত্তরা নিশ্চিন্তে এসব পানীয় পান করছেন। শরবতে বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত রঙ মেশানো হচ্ছে। ঠান্ডার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে মাছ হিমায়িত করার বরফ।

পথ-খাবার যারা বিক্রি করেন তাদের বসার কোনো নির্দিষ্ট ও নিরাপদ জায়গা নেই। রাস্তার পাশে ধুলোবালি জীবাণু সহজেই মিশে যাচ্ছে। তারা পর্যাপ্ত পানি বহন করছে না। খাবার বানাচ্ছে হাত দিয়ে। কিন্তু হাত ধুতে পারছে না। ফলে খাবারে তাদের হাত থেকে রোগজীবাণু মিশে যাচ্ছে খাবারে। আইসিডিডিআর,বির গবেষকরা বিক্রেতার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন অধিকাংশ খাবারে প্রচুর জীবাণু রয়েছে। 

সোমবার জানা যায়, আইসিডিডিআর,বিতে সাধারণত প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগী থাকে। কিন্তু গত তিন দিনে কলেরা হাসপাতালে এক হাজার ৯০০ রোগী ভর্তি হয়েছে। 

পথ-খাবার বিক্রেতাদের আইসিডিডিআর,বির গবেষকরা পরীক্ষামূলকভাবে পানি এবং হাত বিশুদ্ধ রাখার বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করে দেখেছেন জীবাণু সংক্রমণ অনেক কমে গেছে। টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া থেকে শুরু করে খাদ্য এবং পানিবাহিত যেকোনো রোগের কারণ হতে পারে এসব খাবার। 

আমরা মনে করি, লাখ লাখ বিক্রেতার আচরণ পাল্টানো সহজ নয়। তবে পাইলট পদ্ধতিতে তাদের সচেতন করে এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের সংস্কার করে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। তাদের কোনোভাবে নিবন্ধিত করে মান তদারকি করা যায় কি-না ভাবতে হবে। বিক্রেতাদের উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত খাবার নিরাপদ রাখার বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সেইসঙ্গে যারা খায় যেমন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ক্রেতাদের সচেতন করতে হবে। 

পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে প্রত্যেকেরই ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার। সুস্বাস্থ্য আমাদের জীবনে শুধু আনন্দই বয়ে আনে না, সুস্বাস্থ্য আমাদের উপহার দেয় অফুরন্ত কর্মচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা, শক্তি যা জীবনে বয়ে আনে কাক্সিক্ষত সাফল্য। সারা দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। তাপপ্রবাহজনিত শারীরিক অসুস্থতার হাত থেকে রক্ষা পেতে চাইলে একটি সচেতন ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সচেতন হোন, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করুন; ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।     


সিলেট প্রেস / ২৩ এপ্রিল ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০৪-২৩ ০১:২৫:৪৪