সিলেটের জৈন্তাপুরে সরকারি টিলা কেটে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল খালিক নামের স্থানীয় এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এতে বর্ষায় টিলা ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হর্নি গ্রামে টিলা কেটে ঘর নির্মাণের এই অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া স্থানীয় ২০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ব্যবহারে তাঁদের বাধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছে স্থানীয়রা।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, জৈন্তাপুর উপজেলায় এর আগেও টিলা ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা হওয়ায় অবৈধভাবে এখানে টিলা কাটা হলে বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। অথচ সেই আশঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে টিলা কেটে সরকারি খাসজমিতে ঘর নির্মাণ করছেন আব্দুল খালিক।
এ ছাড়া টিলা কেটে রাস্তা ভরাট করে সেখানে চারা রোপণ করেছেন তিনি। এখন এলাকার ২০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহারে বাধা দিচ্ছেন খালিক। ফলে গ্রামের লোকজন যাতায়াত করতে পারছেন না। আবেদনে আরো বলা হয়, হর্নি গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি তাদের স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া সন্তানরা চলাফেরায় বাধার মুখে পড়ছে।রাস্তাটি দিয়ে যেতে চাইলে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দা মুহিবুর, আলাউরসহ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাঁরা ৪০ বছর ধরে রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি আব্দুল খালিক পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে গ্রামবাসীর চলাচলের ক্ষেত্রে রাস্তাটি ব্যবহারে বাধা দিচ্ছেন। তবে তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংঘাতে না জড়িয়ে প্রশাসনের সহায়তার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল খালিক বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
রাস্তা বন্ধ হয় এমন কিছু করিনি আমি।’ তবে টিলা কাটার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘টিলার খুব সামান্য জায়গা কেটেছি। আমাদের সাবেক মেম্বার রহিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, যতটুকু প্রয়োজন কেটে ঘর বানাতে।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পূর্ব সাতজনি গ্রামে ২০২২ সালের ৬ জুন ভোরে টিলা ধসে চারজনের মৃত্যু হয়। এরপর প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর হলেও সম্প্রতি আবার টিলা কাটার প্রবণতা বাড়ছে।




















