চুরির টাকায় প্রাইভেট কার ভাড়া করে বান্ধবী নিয়ে ঘোরেন হৃদয়

  • প্রকাশের সময় : ১৭/০৫/২০২৪ ০৫:২৪:২২ AM

আব্দুল্লাহ আল হৃদয় ওরফে রিফাত

Share
43

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় এক শিক্ষকের বাসায় চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণ, চোরাই কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও ৫০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিষয়টি জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিনুল হাসান। তিনি বলেন, বুধবার রাতে  রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন আব্দুল্লাহ আল হৃদয় ওরফে রিফাত (২২) ও কামাল হোসাইন মুন্না (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ শরীরচর্চায় বিশেষ পারদর্শী ও ফিটনেস প্রশিক্ষক। তিনি চুরি করা জিনিস বিক্রি করে প্রাইভেট কার ভাড়া করে বান্ধবী সঙ্গে নিয়ে ঘোরাফেরা করতেন।

এসআই মোমিনুল হাসান বলেন, গত ১৯ মার্চ চান্দগাঁও আবাসিকের শর্মিষ্ঠা বড়ুয়া নামের একজনের দ্বিতীয় তলার বাসার মেইন দরজার তালা কেটে স্বর্ণালংকার, টাকা ও প্রাইজ বন্ড চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনার পর থানায় এজাহার দায়ের করেন তিনি। এরপর  ঘটনাস্থল ও ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির সঙ্গে জড়িত রবিন নামের একজনকে ১৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আাদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। চুরির সঙ্গে জড়িত বাকিদের নাম প্রকাশ করেন।তার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সিআরবি এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ আল হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যে  মহেরাজখান চৌধুরীঘাটা এলাকা থেকে মো. কামাল হোসাইন মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এ সময় এক ভরি স্বর্ণ, একটি লোহার তৈরি কাটার, একটি প্লাস ও  ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হৃদয়, মুন্না ও রবিন বন্ধু। তারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা এলাকায় দিনে ও রাতের বেলা ঘোরাফেরা করেন।

তারা বিভিন্ন বাড়ির দিকে নজর রাখেন। কোনো ঘরে আলো না থাকলে তারা মনে করেন সে বাসার লোকজন নেই। আবার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সিঁড়ি দিয়ে উঠে দেখেন তালা দেওয়া আছে কি না। তালা দেওয়া থাকলে তারা সেই বাসাকে টার্গেট করে কাটার দিয়ে তালা কেটে সময়মতো চুরি করেন। আবার কোনো বাড়িতে দারোয়ান না থাকলে সুযোগ বুঝে বিল্ডিংয়ে উঠে যে বাসায় তালা দেওয়া থাকে সে বাসার তালা ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করেন।

এসআই মোমিনুল হাসান বলেন, আব্দুল্লাহ আল হৃদয় নিয়মিত জিম করেন। বিভিন্ন জিম সেন্টারে তিনি ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেন বলেও দাবি করেছেন। তিনি চুরির টাকায় প্রাইভেট কার ভাড়া করে চলাফেলা করেন। বিভিন্ন সময় সেই গাড়িতে বান্ধবীদের নিয়ে ঘোরাফেরাও করেছেন হৃদয়। এ ছাড়া ইয়ারাও সেবন করেন তিনি। আর মুন্না খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা। মুন্না ও রিফাত সম্পর্কে সৎভাই।


সিলেট প্রেস / ১৭ মে ২০২৪ / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০৫-১৭ ০৫:২৪:২২