সিলেটে সড়কপথে বাধা পেয়ে এবার নৌপথ ব্যবহার করছে চোরাই চিনির কারবারিরা। নৌপথে চিনির চোরাচালান ঠেকাতে অভিযানে নেমেছে সিলেটের নৌ-পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ জুন) ভোরে লক্ষ্মীবাউর হাওর এলাকা থেকে ২১০ বস্তা ভারতীয় চিনি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সময় জব্দ করেছে নৌ-পুলিশ। জব্দ করা চোরাই চিনির বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চোরাই চিনির সঙ্গে থাকা এক বাহককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অভিযান আগেই টের পেয়ে পালিয়ে গেছে এক চোরাকারবারি।
নৌ-পুলিশের ছাতক থানার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযানের পর মঙ্গলবার রাতে নৌ-পুলিশের এসআই বাদল ফকির বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় আটক খায়ের উদ্দিনকে (৩০) আসামি করা হয়েছে।
সিলেটে গত ৬ জুন ১৪ ট্রাক চিনি ধরা পড়ার পর সড়কপথে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। একই দিন রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে পাঁচ ট্রাকভর্তি চোরাই চিনি। এই দুই ঘটনার পর সুনামগঞ্জ গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চিনিভর্তি ট্রাক ছিনতাই চেষ্টাকালে ধরা পড়ে চোরাই চিনির আরেকটি চালান।
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সড়কপথে বাধা পেয়ে নৌপথে সক্রিয় হয় চোরাচালান চক্র। মঙ্গলবার ভোরে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের নোয়ারাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীবাউর হাওর এলাকা দিয়ে স্থানীয় বাজারে নিয়ে চোরাই চিনি ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। নৌপথ ব্যবহার করার বিষয়টি স্থানীয় নৌ-পুলিশের কাছে পৌঁছালে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়।
এর আগে নৌপথে চিনির সঙ্গে থাকা একজন চোরাকারবারি কৌশলে পালিয়ে যায়। ট্রাকে ওঠানোর সময় চোরাই চিনির সঙ্গে থাকা খায়ের উদ্দিনকে আটক করা হয়। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উলুরগাঁও গ্রামে।
নৌ-পুলিশ সূত্র আরও জানায়, সড়কপথে এই তিনটি ঘটনার পর চোরাচালানিরা চিনি পরিবহন কৌশল বদল করতে গিয়ে নৌপথ ব্যবহার করছিল। অভিযানকালে পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার কিরাণপাড়া গ্রামে। এদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক খায়ের উদ্দিনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ছাতক থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার




















