কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ ও নাশকতার ঘটনায় সিলেটের তিন থানায় এ পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে ২৪৪ জনকে। আর অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার জনকে। সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কোটা আন্দোলন ঘিরে সিলেটে সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার। চলে শনিবার পর্যন্ত। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় চারটি, কোতোয়ালি থানায় পাঁচটি এবং দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় এ পর্যন্ত যে ১০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ফখরুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মো. শাহজাহান আলী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, জামায়াত নেতা ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।
এর মধ্যে গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানার অভিযানে পাঁচজন, জালালাবাদ, দক্ষিণ সুরমা ও শাহপরান থানার অভিযানে দুজন করে ছয়জন এবং মোগলাবাজার থানার অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ।
কোটা আন্দোলন ঘিরে সিলেটে সংঘাত-সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় গত ১৬ জুলাই।
পরদিন বুধবার ছাত্রদল ও যুবদলের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মদিনা মার্কেট পর্যন্ত এলাকাজুড়ে পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরদিন শুক্রবার নগরের কোর্ট পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে রাতে কারফিউ জারি হওয়ার পর শনিবার তেমুখী, সুরমা পয়েন্ট ও আখালিয়া নয়া বাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। গত রবিবার থেকে সিলেট নগরে নতুন করে আর কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
স্টাফ রিপোর্টার




















