সিলেটে তৌহিদ, জাকির, আব্দুর রহমানসহ ১৭ জনের নামোল্লেখ করে ফের মামলা দায়ের

  • প্রকাশের সময় : ২৮/০৮/২০২৪ ০৫:৩৪:৫২ AM

ছবি-প্রতিবেদক

Share
175

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বিএনপির সারাদেশ ব্যাপী হরতাল ছিল। ঐদিন দুপুর অনুমান ১.০০ ঘটিকার সময় বাদী সিলেট পলি টেকনিক্যাল রোডে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ চলিতেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীর উপর বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়া আক্রমণ করে ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা, সাবেক প্রেস সচিব, ওয়ার্ড যুবলীগ, কাউন্সিলর সহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার মোঃ নুরুল ইসলাম।  মামলায় ১৭জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫/১৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আসামীরা হলেন ১। ইকবাল সোবহান চৌধুরী (৭৫), সাবেক তথ্য উপদেষ্টা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২। নাঈমুল ইসলাম খান, সাবেক প্রেস সচিব, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৩। শামীম আহমেদ (৪০), সভাপতি ১২নং ওয়ার্ড যুবলীগ, সিলেট, পিতা-মৃত মুহিবুর রহমান, সাং- শুভেচ্ছা ২৫০, শেখঘাট, সিলেট।

৪। মোঃ ছুরত আলী (৪৬), (সাংগঠনিক সম্পাদক বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, সিলেট মহানগর শাখা)

পিতা-মৃত ইসমাইল আলী, সাং-রহমতপুর, ডাকঘর- জয়নগর বাজার, থানা-সুনামগঞ্জ সদর, জেলা- বর্তমানে-৪৪, রাজাম্যানশন, পশ্চিম থানা-কোতোয়ালী, এসএমপি, সিলেট। সুনামগঞ্জ, জিন্দাবাজার,

৫। এস এম শওকত আমীন তৌহিদ (৪৬), পিতা- এম সুলতান, সাং-প্রত্যয়-৯০, রায়নগর, দপ্তরীপাড়া, সিলেট।
 
৬। তাকবির ইসলাম পিন্টু (৪০), (কাউন্সিলর, ২৫নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন)

পিতা-মকবুল মিয়া, সাং-৩০১ সি খোজারখলা, সুরমা, সিলেট। দক্ষিণ

৭। জাকির হোসেন (৬১), সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ, পিতা-তাজিদ হোসেন, সাং-সেবক- ৮৭, রায়নগর, সিলেট।

৮। আব্দুর রহমান (৫৭), প্রচার সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ, পিতা-আব্দুল বাছিত, সাং-রাসোস-৩১, রায়নগর, সিলেট

৯। আবু সিদ্দিক সুবেল উরফে ভাগ্না সুবেল (৪২), সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ, পিতা-মৃত আব্দুল ওয়াহিদ (আরব), সাং- আজাদী-১১৩, মিরবক্সটুলা, থানা- কোতোয়ালী, জেলা-সিলেট।

১০। জুমাদিন আহমদ (৪৮) (কার্যনির্বাহী সদস্য, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ), পিতা-মৃত সুলতান মিয়া, খোজারখলা, ব্লক-ডি, ২৫নং ওয়ার্ড, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

১১। তপন কান্দি দে (৪৫), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ, পিতা-তৃপ্তি কান্তি দে, স্থায়ী ঠিকানা-হেতিমগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, সিলেট, বর্তমানে-ভাঙ্গাটিকর, শেখঘাট, থানা-কতোয়ালী, জেলা- সিলেট।

১২। এলাইছ আহমদ (৩৫), পিতা- ময়না মিয়া সাং-খয়েরপুর, বুরুঙ্গা, ওসমানীনগর, সিলেট।

১৩। ইমাদ উদ্দিন (৪২), ২২নং ওয়ার্ড যুবলীগ, পিতা-মৃত আব্দুর রশিদ, সাং-বাসা নং-২০, ব্লক-বি, রোড, শাহজালাল উপশহর, সিলেট। মেইন
 
১৪। মোঃ বদরুল আলম (৩৫), পিতা-তাজ উদ্দিন

সাং-দুধবকসী, মাথিউরা, থানা-বিয়ানীবাজার, জেলা- সিলেট, বর্তমানে-খোঁজারখলা, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

১৫। ফয়েজ আহমদ (৩৫), ছাত্রলীগ

পিতা-মৃত সমসু মিয়া, সাং-খোজারখলা, সি ব্লক, ২৫নং ওয়ার্ড সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

১৬। রাসেল (৩৫), ছাত্রলীগ, পিতা-মৃত চান মিয়া, খোজারখলা, ব্লক-সি, ২৫নং ওয়ার্ড সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

১৭। ছালেক আহমদ ছালিক (৫০), সিলেট মহানগর যুবলীগের সদস্য, পিতা-মৃত আব্দুল মুছব্বীর, সাং- উত্তরকুল (রাড়িগ্রাম), ডাকঘর- জকিগঞ্জ, জেলা-সিলেট, বারঠাকুরী, থানা- বর্তমানে-কল্লগ্রাম, সিলেট

অভিযোগে মামলার বাদী উল্লেখ করেন, বিএনপির সারাদেশ ব্যাপী হরতাল ছিল। ঐদিন দুপুর অনুমান ১.০০ ঘটিকার সময় বাদী সিলেট পলি টেকনিক্যাল রোডে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ চলিতেছে। উক্ত সংবাদ পাইয়া বাদী তাহার সহকর্মী ও আরো অন্যান্য সাংবাদিক সহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীর উপর বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়া আক্রমণ করে। বাদী সেই সময় অস্ত্র সহ ছাত্রলীগের ক্যাডারদের ছবি তাহার ক্যামেরায় ধারন করেন। আসামীগণ বাদীর ক্যামেরায় তাহাদের অস্ত্র সহ ছবি রহিয়াছে জানিয়া ১-৮নং আসামীগণের সাথে যোগাযোগ করিয়া বাদী তাহাদের মতাদর্শী সাংবাদিক নয় জানিয়া ১-৮নং আসামীগণের পরিকল্পনা, নির্দেশ, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে বাদীকে প্রাণে হত্যার জন্য ঘটনাস্থলে আসিয়া ৯-১৭নং আসামীগণ বাদীর পথরোধ করে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ০৯ নং আসামী তার হাতে থাকা দা দিয়া বাদীর মাথার মধ্যখানে কুপ মারিয়া মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত দার কুপের আঘাতে বাদীর মাথার মধ্যখানে ৯টি সেলাই লাগে। ১০ নং আসামী তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর মাথা লক্ষ করিয়া বারি মারিলে উক্ত বারী বাদীর নাকে পড়িয়া মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয় এবং ৯-১৭ আসামীগণ তাহাদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়া বাদীকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতারি মারধর করিয়া রক্তাক্ত জখম করে এবং বাদীর সাথে থাকা তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দামের ক্যামেরা আসামীগণ ভাংচুর করিয়া দুই হাজার টাকা দামের ক্যামেরার মেমোরি কার্ড চুরি করিয়া নিয়া যায়। ৯-১৭ নং আসামীগণ যাওয়ার সময় হুমকি দিয়া বলে এই বিষয়ে কোন ধরণের মামলা মোকদ্দমা করিলে বাদীকে প্রাণে হত্যা করিবে। সাক্ষীগণ ও পথচারী লোকজন বাদীকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করিয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিলে বাদী রেজিঃ নং-২৮৪৫৩ মূলে বিগত ১১/১২/২০১২ইং হইতে ১৫/১২/২০১২ ইং পর্যন্ত ৫নং ওয়ার্ডের ৭নং বেডে ভর্তি থাকিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করেন। বাদী চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা গ্রহণ করেন নাই। এমনকি বাদী উক্ত বিষয়ে একটি সাধারণ ডাইরী করতে চাইলে তাহাও গ্রহণ করেন নাই। বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার ছাত্র জনতার গন অভ্যুথানের ফলে উৎখাত হওয়ায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্টিত হওয়ায় বাদী মাননীয় আদালতে ন্যায় বিচারের আশায় অত্র মামলা বিলম্বে দায়ের করেন।


সিলেট প্রেস / ২৮ আগস্ট ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৪-০৮-২৮ ০৫:৩৪:৫২