সিলেটে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হামলার অভিযোগে নগরের কোতোয়ালি মডেল থানায় আরও দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী-সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
মহানগরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুনু মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার (৫আগস্ট) ও বুধবার (৪ আগস্ট ) মামলা দুটি করা হয়েছে। নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার মো. ফয়জুল বারী দিনার বাদী হয়ে আজ এবং খাসদবির এলাকার মো. ইমন আহমদ বাদী হয়ে গতকাল মামলা করেন।
ফয়জুল বারী বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে মামলা করেছেন। তাঁর মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য রনজিত সরকার, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ ও সভাপতি কিশওয়ার জাহান আছেন।
এ ছাড়া আসামি হিসেবে আছেন এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, তারেক উদ্দিন তাজ ও লায়েক আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদ রহমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট আনুমানিক বেলা ২টার দিকে নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ জন দেশি অস্ত্রশস্ত্র ও ককটেল নিয়ে বেআইনি জনসমাবেশ করে ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করে। এ সময় আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে, ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও হামলা করে অনেককে গুরুতর আহত করেন। আসামিদের হামলায় বাদীও গুরুতর আহত হন।
ইমন আহমদের করা মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে। আসামিদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফসর আজিজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পিযুষ কান্তি দে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ উল্লেখযোগ্য।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ জুলাই বিকেল পৌনে ৪টা থেকে ৪টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট ও বন্দরবাজার এলাকায় আসামিরা ছররা গুলি ছুড়ে এবং দেশি অস্ত্র দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির পাশাপাশি নিরীহ ছাত্র-জনতাকে জখম করেন।




















