মাঠে নেই পুলিশ, মাদক কারবারিরা বেপরোয়া

  • প্রকাশের সময় : ১৩/০৯/২০২৪ ০৮:০৫:৪০ AM

ছবি-প্রতীকী

Share
52

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মাঠে পর্যায়ে আগের মতো সক্রিয় নেই পুলিশ। এ সুযোগে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অবাধে চলছে মাদকের কারবার। শুধু উপজেলা সদরেই নয়, প্রত্যন্ত গ্রামেও প্রসারিত হয়েছে মাদক কারবারিদের থাবা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বানিয়াচং উপজেলা সদরের অন্তত ১৬টি স্পটে অবাধে মাদক কেনাবেচা চলছে। এসব স্পটে যারা মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত, তাদের অনেকেই কিশোর-তরুণ। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। তবে এ উপজেলায় প্রকাশ্যে মাদকের হাট অবশ্য নতুন কিছু নয়। মাঝেমধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হয়। এসব অভিযানে চুনোপুঁটিদের আটক করা হয়। সব অভিযানেই অধরা থেকে যায় রাঘব-বোয়ালরা। বর্তমান সময়ে মাঠে পুলিশ না থাকায় দেদার মাদক বিক্রি করছে কারবারিরা। 

বানিয়াচং উপজেলার বানিয়াচং বড় বাজারের বাসস্ট্যান্ড, কামালখানী রাস্তার জিপস্ট্যান্ড, আদর্শ বাজারের নৌকাঘাট, রঘু চৌধুরীপাড়ার ভূমি অফিসের মোড়, নতুন বাজার থেকে বড় বাজার যেতে টাম্বুলী টুলার স মিল, এলাড়িয়ার মাঠে পশ্চিমের রাস্তার মোড়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক পয়েন্ট, সাগরদিঘির দক্ষিণপাড়, জনাব আলী সরকারি কলেজের পেছনে, ছিলাপাঞ্জার মোড়, ঠাকুরাইন দিঘির পাড়সংলগ্ন বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ার ব্রিজ, নতুনবাজার বড় বাজার রোডের বাংলালিংক টাওয়ারের কাছে, পৌর শহরের মাদানি ম্যানসনের উত্তর পাশে, খাদ্যগুদাম এলাকা, মহিলা কলেজ রোডের কয়েকটি চায়ের দোকান, নতুন বাজার পশ্চিমের স্ট্যান্ড, কুণ্ডুরপাড়ের ব্রিজ এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি হচ্ছে। এসব স্পটে পথচারীদের ডেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করছে কারবারিরা। হাত বাড়ালেই মিলছে দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, হুইস্কি, বিয়ারসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক প্রতিরোধে মাঝেমধ্যেই অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আবারও মাদকের কারবারে জড়িয়ে পড়ে তারা।

উপজেলাজুড়ে মাদকের বিস্তারে উদ্বেগ জানিয়ে বানিয়াচং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল ভূষণ রায় বলেন, সচেতন ব্যক্তিরা একতাবদ্ধ হয়ে মাদকসেবীদের প্রতিহত করা না হলে এই মরণ নেশায় এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন,  মাদক সেবনকারীরা বেশির ভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে জরুরিভাবে তৎপর হওয়া উচিত প্রশাসনের।

বানিয়াচং থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি বানিয়াচং থানায় সবেমাত্র যোগদান করেছেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যরা এখনও থানায় যোগদান করেনি। থানায় ফোর্স এলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


সিলেট প্রেস / ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০৯-১৩ ০৮:০৫:৪০