অনিয়মে আটকে আছে বালাগঞ্জের ফতুরখাড়া সেতুর কাজ

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৯/২০২৪ ০৬:৩৮:৫৮ AM

Share
54

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ফতুরখাড়া সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের জুনে। ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এ সেতুর কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। এতটুকু কাজ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুলে নিয়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

এরই মধ্যে অনিয়মের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ। তবে অনিয়ম থাকলেও মানতে নারাজ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সেতু নির্মাণে তেমন অনিয়ম হয়নি। বন্যার পানির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, বালাগঞ্জের ফতুরখাড়া পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জনজেবি কনস্ট্রাকশন সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০২৩ সালের ২৭ মে সিলেট-বালাগঞ্জ সড়কের ২১তম কিলোমিটারে ৭৬ দশমিক ১ মিটার দৈর্ঘ্যের ফতুরখাড়া পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৬ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। নির্মাণকাজের তদারকি করেন সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান।

স্থানীয়রা জানান, নিয়ম অনুযায়ী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী পাইল ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত থাকবেন। অথচ ৩২টি পাইল ঢালাইয়ে প্রকল্পের আশপাশেও কেউ ছিলেন না। কাজে অনিয়ম করতে দিনে না করে রাতে করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেতুর পিলারে চারটি খাঁচা বসানোর কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে তিনটি। নকশা অনুযায়ী, সেতুর ৪৫ মিটার করে ৩২টি পাইল করার কথা। অথচ বেশির ভাগ পাইল ২৪ মিটার, আবার কোনোটি ৩৬ মিটারও করা হয়েছে। পাথরের মান নিম্ন। ইতোমধ্যে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কাজ না করে বাকি টাকা তুলে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে সেতুর কাজের অনিয়ম দেখতে গত এপ্রিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেন সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান। বেস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড নামে ওই প্রতিষ্ঠান তদন্ত করে নানা অনিয়ম পায়। পরে হাবিবুর রহমানে সওজ সিলেটের অতিরিক্ত প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদার মিলে ফতুরখাড়া সেতু পরিদর্শন করেন। তিনি কাজের অনিয়ম পেয়ে সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা এমপির সঙ্গে বিষয়টির মীমাংসা করেন। তবে সেতুর কাজ এখনও বন্ধ।

রহমতপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, সেতুটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যাপক অনিয়ম করেছে। রাতের অন্ধকারে কাজ করেছে। পাইলিংয়ে খাঁচার গভীরতা কম দেওয়ায় সেতু টেকসই হবে না। গাড়ি চলাচল শুরু হলে ভেঙে পড়তে পারে।

সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মৌলভীবাজার-রাজনগর, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের সাতটি কালভার্ট এবং পিএমপি সড়ক কর্মসূচির আওতায় ডিবিএস ওয়ারিং কোর্স, ডিবিএস বেস কোর্স কাজের উন্মুক্ত টেন্ডার হয়। কাজ পায় মেসার্স জনজেবি কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানের মালিক গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান। ওই কাজে নানা অনিয়ম হয়। এ ঘটনায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। আসামি করা হয় সিলেট সওজের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তানবীর হোসেন, মাসুম আহমদ, আনোয়ার হোসেন, আবুল বরকত মো. খুরশীদ আলম ও জনজেবির পরিচালক লুৎফুর রহমানকে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। ঠিকাদার লুৎফুরের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়েছে। তিনি এখন আত্মগোপনে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, আমার জানামতে তেমন অনিয়ম হয়নি। যে প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান সেতুর উন্নয়নকাজের অনিয়ম যাচাই করেছে, তারা সঠিকভাবে করতে পারেনি।

প্রথমে অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বন্যার কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে।


সিলেট প্রেস / ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-০৯-২০ ০৬:৩৮:৫৮