সিলেটের অন্যতম ‘সাদা পাথর’ পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে উঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি চলছেই। দেশের সরকার পরিবর্তনের পরও এই চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। সরকারি জায়গার মালিকানা দাবি করে ভাড়ার নামে দোকান থেকে এসব চাঁদা তুলছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু লোক। কখনও রাজনৈতিক পরিচয়ে, কখনও স্থানীয় প্রভাবে আদায় করা হচ্ছে ভাড়ার নামে চাঁদা।
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে সরকার পতনের আগ পর্যন্ত অন্তত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের লোকজন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তারা আশা করছিলেন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে হয়তো চাঁদাবাজিমুক্ত ব্যবসা করতে পারবেন, কিন্তু তা হয়ে উঠছে না।’ চাঁদা না দেওয়ায় সর্বশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাদা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খোকনের ‘বন্ধু কসমেটিক্স শপ’ নামের একটি দোকানে হামলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে একটি পক্ষ। সরকার পরিবর্তনের পরও তারাই চাঁদাবাজিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম স্থানীয় ভোলাগঞ্জ গ্রামের আলমগীর হোসেন। তিনি লোকজন নিয়ে খোকনের দোকানে হামলা করেন। এ ঘটনায় খোকন ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পাশাপাশি গত মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আলমগীর ছাড়াও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত সাব্বির মাহমুদ, উবায়েদ আহমদসহ কয়েকজন। তারা প্রতিমাসে ভাড়ার নামে চাঁদা আদায় করেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুর ভিড় বাড়তে শুরু করলে পর্যটনঘাট ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ৫০-৬০টি দোকান চালু হলেও বর্তমানে দোকানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০টি। সরকারি খাস জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে ২০-৩০ হাজার টাকা করে গচ্চা দিতে হয়েছে। এখনও কেউ দোকান খুলতে চাইলে টাকা দিতে হয়। প্রতিমাসে শতাধিক দোকান থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আদায় করে প্রভাবশালীরা।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর আলমগীরসহ ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন খোকন। অভিযোগে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে সাদা পাথর পর্যটন এলাকার সরকারি খাসজমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর হোসেন ও তাঁর লোকজন চাঁদাবাজি করে আসছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ব্যবসায়ী খোকনের ওপর হামলা হয়।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা জানান, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পেয়ে তিনি স্থান পরিদর্শন করেছেন। সরকারি জায়গায় থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে চাঁদা না দিতে বলা হয়েছে।
সাদা পাথর পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সফাত উল্লাহ বলেন, নিজের জায়গা দাবি করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক টাকা আদায় করে আসছে অনেকেই। সেই জায়গা ব্যক্তি মালিকানাধীন নয়। এমনিতেই পর্যটনকেন্দ্রে নানা সমস্যা চলছে, তারপরও যদি অযথা টাকা দিতে হয় তাহলে ছোট ব্যবসায়ীরা কীভাবে টিকবে। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের দাবি, তিনি কারও কাছ থেকে চাঁদা আদায় কিংবা কাউকে মারধর করেননি।




















