সিলেট সীমান্ত দিয়ে চিনির রমরমা বাণিজ্য

  • প্রকাশের সময় : ২০/১০/২০২৪ ০৯:১৯:১১ AM

Share
25

প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের আগে সিলেটের সীমান্ত দিয়ে চিনির রমরমা বাণিজ্য ছিল। হেডকোয়ার্টার হরিপুরেই প্রতিদিন শতকোটি টাকার চিনির কারবার হতো। প্রশাসন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও চোরাকারবারিরা সিন্ডিকেট গড়ে তোলার কারণে টু শব্দ ছাড়াই চোরাই চিনির অবাধ বাণিজ্য হয়েছে। ৫ই আগস্টের পর থেকে সীমান্তে সক্রিয় বিজিবি। গুদামে, সড়কে চিনি ধরতে সক্রিয় র‌্যাব ও পুলিশ। ফলে চিনির কারবার আগের চেয়ে ১০ গুণ কমে এসেছে। গত দুই মাসে সিলেট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিজিবি অন্তত ১০ কোটি টাকার চোরাইপণ্য আটক করেছে। এর মধ্যে চিনি চালানের সংখ্যাই বেশি। এই অবস্থায় গত দুই মাসে চিনি নিয়ে নানাকাণ্ড ঘটে গেছে সিলেটে। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত হয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। কেউ সরাসরি হয়েছেন গ্রেপ্তার, আবার কেউ কেউ শেল্টার দিতে গিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। সর্বশেষ ওসমানীনগরের সাদীপুরে চিনিকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়াও মামলার আসামি হয়েছেন কয়েকজন বিএনপি নেতা। এর আগে ওসমানীনগর সাদীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি একই কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। বহিষ্কার করা হয়েছিল আরও দুই নেতাকে। এ ছাড়া নগরের শাহপরান এলাকায় চিনিবোঝাই কয়েকটি চিনির ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিতর্কিত হয়েছিলেন। এখন যেসব ঘটনা ঘটেছে সবখানেই বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা বেশি বিতর্কিত হচ্ছেন। অথচ আওয়ামী লীগের শাসনের সময় চিনি নিয়ে পুকুরচুরি হলেও কোনো বিতর্ক ছিল না; বরং প্রশাসনসহ সুবিধাভোগী সবাই এক কাতারেই ছিলেন। খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের শেল্টার ছিল সিলেটের এ ব্যবসায়। ভোলাগঞ্জ ও জাফলংয়ে পাথর, বালু আওয়ামী লীগের শাসনামলে নীরবেই হয়েছে। শ’ শ’ কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট করা হলেও নীরব পরিস্থিতি থাকায় কেউ বিতর্কে জড়াননি। 

আওয়ামী লীগের স্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন এই লুটপাটে জড়িত। কিন্তু পটপরির্তনের পরপরই দৃশ্যমান লুটপাট হওয়ার কারণে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট করা হয়েছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত হচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাটের চোরাচালানে এসেছে অনেকের নাম। সিলেট বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, যারা সীমান্ত চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের মূলত কোনো দল নেই। তারা সুবিধা নিতে একেক সময় একেক দল ও নেতার আশ্রয়ে চলে যায়। এ কারণে তাদের দ্বারাই অনেকেই বিতর্কিত হচ্ছেন।

গোয়াইনঘাট এলাকায় কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নামে চিহ্নিত চোরাকারবারিরা ফের মাঠে সক্রিয় হয়েছে। তবে, ওইসব অপরাধ এখনো আওয়ামী লীগ কিংবা তার  দোসররা নিয়ন্ত্রণ করছে। আর বিএনপি’র নেতাকর্মীদের কৌশলে বিতর্কিত করা হচ্ছে। আর যারাই বিতর্কিত হচ্ছেন তাদের ওপর দল থেকে শাস্তির খড়গ নামছে। এতে করে দলের ভেতরেও অসন্তোষও বিরাজ করছে। বিব্রত সিলেটের নেতারা। তারা জানান, আবার  কোথাও কোথাও বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই বিএনপিকে বিপদের সম্মুখীন করছে। ওসমানীনগরের সাদীপুরের ঘটনা তেমন একটি ঘটনা। ওখানে বিএনপি নেতারাই বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিতর্কিত করেছে। সাদীপুরের ঘটনা নিয়ে বিএনপি’র ভেতরে তোলপাড় চলছে।

সিলেটের পরিবহন খাতসহ নানাখাতেও আসছে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নাম। তবে বিতর্কিত ঘটনায় যাদেরই নাম আসছে তাদের ওপর শাস্তির খড়গ নামছে। ইতিমধ্যে সিলেট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মীকে নানাভাবে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরমধ্যে স্থায়ীভাবেও নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। সিলেট বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর অস্থিরতা বিরাজ থাকায় সামাজিকভাবে অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর নির্যাতিত হওয়া অনেকেই ক্ষোভের প্রকাশের অংশ হিসেবে অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে বিএনপি’র দলীয়ভাবে লাগাম টেনে ধরছে। তাদের মতে, প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। এজন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা এখনো অনেক ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে। তবে দিন দিন পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার কারণে এখন অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগরের সভাপতি মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, অপরাধ এবং অপরাধীদের সম্পর্কে সিলেট বিএনপি’র কোনো ছাড় নেই। যারাই অপরাধ করছেন তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি’র জেলা নগরের নেতারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন; কারও একার অপরাধের দায়িত্ব দল  নেবে না। নিচ্ছেও না। অপরাধীকে আমরা অপরাধী হিসেবে বিবেচনায় রেখে দলকে শক্তিশালী করে চলেছি। আমরা কঠোর থাকায় সিলেটে অনেক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নানা অপরাধে জড়িত থাকার কারণে সিলেট জেলা বিএনপি’র তরফ থেকে ইতিমধ্যে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যারা দলকে বিতর্কিত করবে তাদের বিরুদ্ধে আগামীতেও আরও কঠোর থাকবেন বলে জানান তিনি।


সিলেট প্রেস / ২০ অক্টোবর ২০২৪/এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৪-১০-২০ ০৯:১৯:১১