দেশব্যাপী সন্ত্রাসবাদ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিতে আসতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে চলছে বিশেষ অভিযান। সিলেটে শয়তান শিকারের অভিযানকে পুঁজি করে ধরপাকড় বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে। একটি পক্ষ বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বানিয়ে নিরপরাধীদের জেলে প্রেরণ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসৎ অফিসার বড় অঙ্কের টাকার লোভে এমন নেক্কারজনক ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। সম্প্রতি এমন অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের চারাদিঘীর পারের মৃত ডাঃ আনান খাঁনের ছেলে কাওছার খাঁনকে বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের সাবেক কর্মী। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামের অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক।
জানা যায়, সিলেট মহানগরীর ১৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের পঞ্চম সহ-সভাপতি পলাতক কাউছার খানের নামের সাথে সাবেক ওই ছাত্রদল কর্মীর শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় বুধবার শত্রুপক্ষ অর্থের বিনিময়ে পুলিশ দিয়ে তাকে আটক করায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ বিলম্ব করে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত কাওছার খাঁনকে কারাগার পাঠিয়ে দেন।
কাওছার খাঁন ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সে সময় বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামানকেও রাজনীতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। জামানের সাথে কাওছার খাঁন দীর্ঘ ২০ দিন কারাবাসে থেকে জামিনে মুক্ত হন।
প্রকৃত অপরাধী যুবলীগ নেতা কাউছার খান পূর্বে চারাদিঘীর পার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। স্বৈরাচার শেখ হানিনাযুগের পতনের পর যুবলীগের ওই নেতা গা ঢাকা দেন।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতাকে প্রতিহত করতে যারা মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে সেই সব ফ্যাসিবাদীদের দোসর হয়ে কিছু পু্লিশ গোপনে কাজ করছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ মার্কা পুলিশের অসাধু কিছু অফিসার নিরপরাধ মানুষদের ফিটিং মামলায় জড়িয়ে ধরপাকড় বাণিজ্য করছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালিঘাটে রাতে-দিনে নানা পন্থায় ভারতীয় চিনি ঢুকছে। প্রতিটা চিনির গাড়ির তথ্য রাখেন ডিবিপুলিশ থেকে বদলি হয়ে আসা সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক। শহরে কোনো চিনির বস্তা ঢুকতে হলে তার দায়িত্বাধীন এলাকা দিয়ে ঢুকতে হয়। তিনি সিলেটি হওয়ায় সহজে চিনি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে কয়েকজনকে নিয়ে চিনি চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেই সাথে 'শয়তান শিকার' অভিযান শুরু হওয়ায় টাকা কামাতে নিজে শয়তানদের সাথে যোগ দিয়ে শয়তানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সাবেক ছাত্রদল কর্মী কাওছার খাঁনের পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শত্রু পক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে পু্লিশ কাওছার খাঁনকে আটক করে। পরদিন যাতে জামিন না হয় তার জন্য সারাদিন থানায় রাখা হয়। বিচারক যখন তার এজলাস ত্যাগ করবেন সে সময় আটককৃতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এক নামে বহু ব্যক্তি থাকে। কাউকে আটকের পূর্বে তার বাপের নামসহ এনআইডি কাজ যাচাইবাচাইর প্রয়োজন হয়। কিন্তু তা করা হয়নি কেন? পুলিশের পোশাক নয়, জরুরী প্রয়োজন ফ্যাসিস্ট পুলিশ চিহ্নিত করা।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















