এক দিনে জব্দ ২১ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য গত সাড়ে ৭ মাসে রেকর্ড ১৬৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ ঈদ সামনে রেখে বেড়েছে পোশাকের চোরাচালান

চোরাচালানের ‘অভয়ারণ্য’ সিলেট

  • প্রকাশের সময় : ১৫/০৩/২০২৫ ০৯:৪৭:০২ AM

Share
99

সিলেট সীমান্তে ব্যাপকভাবে বেড়েছে চোরাচালান। বেড়েছে বিজিবির তৎপরতাও। ফলে চোরাই পণ্য জব্দের নতুন নতুন রেকর্ড যেমন হচ্ছে, তেমনি সিলেট হয়ে পড়ছে চোরাচালানের ‘অভয়ারণ্য’। চলতি বছরের প্রথম আড়াই মাসেরও কম সময়ে সিলেটে জব্দ হয়েছে ৫৮ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চোরাই পণ্য।

এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসের প্রথম ১২ দিনে জব্দ হয় ২৩ কোটি টাকার পণ্য। এমনভাবে চললে চলতি বছর জব্দের পরিমাণ গত বছরকেও ছাড়াবে। ২০২৪ সালে জব্দ হয় ১৫৬ কোটি টাকার পণ্য। এটি এক বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আর অন্তর্র্বতী সরকারের সাড়ে সাত মাসে জব্দ হয়েছে ১৬৩ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকার চোরাই পণ্য।

গত বুধবার বিজিবি জানায়, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক দিনে ১২ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এটি সিলেট সীমান্তে এক দিনে জব্দের হিসাবে সর্বোচ্চ। তখনো জব্দ পণ্যের চূড়ান্ত তালিকা হয়নি।

পরদিন বৃহস্পতিবার বিজিবির ফেসবুক পেজে জানানো হয়, জব্দকৃত পণ্যের মূল্য ১২ কোটি নয়, ২১ কোটি টাকা। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চে অভিযান কম হলেও চোরাচালানের বিশাল এই চালান জব্দের কারণে আর্থিক পরিমাণ বিচারে বছরের প্রথম দুই মাসকে পেছনে ফেলে দিয়েছে মার্চ মাসের প্রথম ১২ দিনের তিন অভিযান।

বিজিবির তথ্য ও পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, মার্চ মাসের প্রথম ১২ দিনে তিনটি অভিযান হয়েছে। এর মধ্যে ১২ মার্চের অভিযানে ২১ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দের আগে গত ১০ মার্চ এক কোটি চার হাজার ৮৭৫ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য এবং ৭ মার্চ এক কোটি ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। অর্থাৎ মার্চের তিন অভিযানে জব্দকৃত ভারতীয় চোরাই পণ্যের সিজার মূল্য ২৩ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৫ টাকা।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ১০ দিনের অভিযানে ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫০ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করে বিজিবি। এর মধ্যে ১৮ ফেব্রুয়ারি এক দিনে চার কোটি ৮০ লাখ ৬৭ হাজার ১০০ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়।

এর আগে গত জানুয়ারিতে এক মাসে জব্দ করা হয় ১৯ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৫ টাকার চোরাই পণ্য। এর মধ্যে ২৪ জানুয়ারি সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি ২২ লাখ ১৬ হাজার ৭০০ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করে বিজিবি। পরদিন ২৫ জানুয়ারি দুই কোটি সাত লাখ ৫০ হাজার ৬২৫ টাকার চোরাই পণ্য এবং এর আগে ১৮ জানুয়ারি দুই কোটি ৮১ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়। বিজিবির জব্দের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে ১৫৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫৩ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ হয়। এটি এই সীমান্তের ইতিহাসে যেকোনো বছরের তুলনায় দেড় গুণ।

বছর বিবেচনায় এক দশকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগে সবচেয়ে বেশি ৯৫ কোটি ৩৬ লাখ ১৮ হাজার ৫৩৬ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ হয় ২০২২ সালে। ২০২৩ সালে জব্দ হয় ৮২ কোটি ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯০ টাকার পণ্য। সে হিসাবে অন্তর্র্বতী সরকারের ছয় মাসে জব্দ হয়েছে এর প্রায় দেড় গুণ। এ ছাড়া ২০২১ সালে ২৩ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৬৯ টাকার চোরাই পণ্য, ২০২০ সালে ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ছয় হাজার ৪৮৮ টাকার, ২০১৯ সালে ১৩ কোটি ৫১ লাখ এক হাজার ৮১২ টাকার, ২০১৮ সালে চার কোটি ৮২ লাখ ৯১ হাজার ৩২২ টাকার, ২০১৭ সালে চার কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৫০ টাকার, ২০১৬ সালে চার কোটি ৫৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৮ টাকার ও ২০১৫ সালে চার কোটি ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৭৩৬ টাকার চোরাই মালপত্র জব্দ করা হয়।

এসব তথ্য বিভিন্ন সময় বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেন ওই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক।


সিলেট প্রেস / ১৫ মার্চ ২০২৫/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৫-০৩-১৫ ০৯:৪৭:০২