বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা

সিলেটে গ্রেফতার আতংকে নিরীহ মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ৩০/০৪/২০২৫ ১২:২৫:৫৬ PM

Share
121

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দায়েরকৃত এজাহারভুক্ত আসামীদের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে। গেল কিছু দিন ধরে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা বিভিন্ন মামলায় এজাহারকৃত নিরীহ মানুষদের গ্রেফতার করায় আতংকের পরিমান বেড়ে গেছে। কোন রাজনৈতিক দল কিংবা ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলেও শুধু এজাহারে নাম থাকার কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ফলে সিলেট জুড়ে নিরীহ ও সাধারন মানুষের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আইজি থেকে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা বার বার অভয় দিলেও মানছেন স্থানীয় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। 

গেল ৯ এপ্রিল এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করলেও থেকে নেই গ্রেফতার বানিজ্য। সিলেট শহরের চিহ্নিত তদবিরবাজ ও দালালরা স্ব স্ব থানার সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিংবা আইও এবং র‌্যাবের কিছু অসৎ সদস্যকে ম্যানেজ করে সংশ্লিষ্ট কতিত আসামীর নামে ভুয়া আওয়ামীলীগের পদ-পদবীধারী ব্যানার ফেস্টুন তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে ডেভিল ট্যাগ নাগানোর চেষ্টা করছে এবং সাধারন মানুষকে মামলা থেকে বাচাঁনোর কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ বিষয়ে পুলিশের কড়া নজরদারীর দাবী ভুক্তভোগীদের। বৈষম্যবিরোধী কোন মামলার বাদীকেই খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাদীদের সাথে যোগাযোগ করতেও দালালরা হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা। মামলা থেকে অব্যাহতির কথা বলে এফিডেভিটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কোন নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতার বা হয়রানী করা যাবে না মর্মে বার বার স্বরাষ্ট্র উপদেস্টা ও আইন উপদেষ্টা কিংবা পুলিশ প্রধান প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেও মানছেন না মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কিংবা র‌্যাব সদস্যরা।  প্রতিটি মামলায় বিস্কোরকের ধারা সংযুক্ত করায় এসব মামলা থেকে সহজে জামিন পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। 

গেল ২০ এপ্রিল সিলেট সুবিধবাজার কলাপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সদস্য ও সাবেক ফুটবলার ফরিদ আহমদকে র‌্যাব গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাটিয়েছেন। এ নিয়ে পুরো সুবিধবাজার এলাকা জুড়ে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। ফরিদ আহমদের স্বজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, ফরিদ ভাই কোন ধলের সদস্য না। তিনি রাজনীতি পছন্দ করেন না। পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং আমাদের পাড়ার ক্লাবের সভাপতি হিসাবে দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মসজিদের মার্কেটের দোকান কোটা নিয়ে স্থানীয় একটি চক্র তাকে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামী করা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফরিদ ভাইয়ের মুক্তি চাই। 

তেমনি একজন জনপ্রতিনিধিকেও আটক করা হয়েছে। তার নাম আবুল কালাম আজাদ। তিনি খাদিমনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। তাকেও বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামী হিসাবে গত ১০ এপ্রিল র‌্যাব আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে আজাদ মেম্বার জেলে থাকায় তার পরিবার পরিজন খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। মামলার আসামী করার পর মামলা বাদী মেম্বারের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে এফিডেভিট দিয়েছিল কিন্তু সেটা কোন কাজে আসেনি। কথাগুলো বলছিলেন পীরেরগাও গ্রামের এক যুবক। 

পুলিশ কমিশনার অফিস সুত্র জানায়, গেল জুলাই-আগষ্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের ঘটনায় সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার ৬টি থানায় ৯৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব মামলায় ৬৩৪৮জনের নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাত আসামীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশী। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সব মামলা দায়ের করা হয়েছে সেগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন কবে দাখিল করা হবে তাও নিশ্চিত করতে পারছেন না কোন কর্মকর্তা। 

জাতীয় দৈনিক আমাদের কণ্ঠ প্রতিনিধি হুমায়ুন করিব জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আমার নামও অর্ন্তভুক্তি করা হয়েছে। মামলার বাদী হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রাজন মিয়া। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত বিরোধ না থাকলেও জিন্দাবাজারের এক মার্কেট মালিকের প্ররোচনায় আমাকে আসামী করা হয়েছে। আমার নামের সাথে বন্দুক কবির লাগিয়ে সন্ত্রাসী বানানোর চেস্টা করছে। যাতে করে পুলিশ কিংবা র‌্যাব আমাকে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী হিসাবে দ্রুত গ্রেফতার করে। অথচ আমি সারাজীবন জাতীয়তাবাদী দলের সক্রিয় কর্মী ছিলাম। আমার ছোট ভাই সিলেট মহানগর বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। আমাকে নানানভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে এবং মামলার বাদী আমার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে নানান কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। এই মামলার বাদী একটি দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য। সে নিজে বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানাতেও একই ঘটনা দেখিয়ে আরও একটি ভুয়া মামলা রুজু করেছে। সেই মামলাতে অনেক নিরীহ মানুষকে আসামী করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাচ্ছি। 

সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, আমাদের দলের পক্ষ থেকে আইনশৃংখলা বাহিনীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে কোন নিরীহ মানুষকে যেন হয়রানী না করা হয়। সে ক্ষেত্রে আমার দলের কোন নেতা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমান পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে যে কোন পদেই থাকুক না কেন। জনগণকে হয়রানী করবে সেটা করতে দেয়া হবে না। 

দক্ষিন সুরমা থানা অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান জানান, যে কোন মামলার এজাহারভুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করতে আইনী পদক্ষেপ নিতে কিংবা গ্রেফতার করতে কোন বাধা নেই। তারপরও আমরা যাছাই বাছাই করে আসামী গ্রেফতার করছি। 

সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জিয়াউল হক জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দায়েরকৃত মামলায় কোন আসামীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। ফুটেজ কিংবা ছবি বা সম্পৃক্ততা থাকার সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে র‍্যাব কিভাবে আসামী গ্রেফতার করে তার বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি এবং র‍্যাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুরোধ করেন। 

সিলেট পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম এর বক্তব্য জানতে চাইলে বার বার  কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


সিলেট প্রেস / ৩০ এপ্রিল ২০২৫/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৫-০৪-৩০ ১২:২৫:৫৬