ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তার (সচিব) অফিসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতি-অনিয়মের প্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি তদন্ত শুরুর আগেই এসব নথি পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের একদিন আগে বুধবার (৩০ এপ্রিল) ভোররাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মতিউর রহমান মতি একটি মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
ইউপি সদস্য মো. রফিক, আলাউদ্দিন, পিয়ারা বেগম ও তাহমিনা আকতার বলেন, চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সব ইউপি সদস্য একযোগে ইউএনও এবং জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছি। মঙ্গলবার অভিযোগের তদন্ত হওয়ার কথা ছিল। ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপর মহলে যোগাযোগ করে তদন্তের সময় একদিন বাড়িয়ে নেন। ঠিক আগের রাতেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) পলাশ চন্দ্র রায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের নৈশপ্রহরী (চৌকিদার) ফজলুল হক জানান, ওই রাতে আমি পাশের দোকানে টিভি দেখে এসে রাত ৩টার দিক ঘুমিয়ে পড়ি। ফজরের নামাজের আগে পরিষদ চত্বরের মসজিদের মুয়াজ্জিন ওই অফিসরুম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আমাকে জানান। আমি দ্রুত রুমের জানালা ভেঙে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নেভাতে সক্ষম হই।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি অফিস করে বিকেলে বাড়ি চলে যাই। ভোরে আমার রুমে আগুন লেগেছে শুনে পরিষদে ছুটে আসি। ততক্ষণে নৈশপ্রহরী ও স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলে। কিভাবে আগুন লাগলো আমি কিছুই জানিনা।
প্যানেল চেয়ারম্যান হেদায়েতুল্লাহ বলেন,আমাদের চেয়ারম্যান মামলার আসামি হয়ে জেলে রয়েছেন। ইউপি সচিবের কাছে আগুনের কথা শুনে আমি পরিষদে আসি। ইউএনও এবং ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাফিউল মাজলুবিন রহমান বলেন, পুলিশসহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইউপি সদস্যদের অভিযোগের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ওই দিন সকালে তদন্তে যান। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়েও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানকে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাসুদ রানা লেমন, ঠাকুরগাঁও




















