হোটেল কর্মচারী রুমন হত্যা : আব্বাসের রিমান্ড আবেদন শুনানি সোমবার

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৭/২০২৫ ০৯:০৭:০৭ AM

Share
86

সিলেটে আলোচিত  নগরীর কাজির বাজারে   চা দিতে দেরি  করায়  হোটেল কর্মচারী  রুমন( ২২)  খুনের হুকুমের আসামী পুলিশের হাতে আটকের পর  কারাগারে থাকা  আব্বাস (৫৫ ) এর  রিমান্ড আবেদনের শুনানি  সোমবার।

পুলিশের পক্ষ থেকে ৭ দিনের রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে । আব্বাস পুলিশের কাছে  রুমন খুনের ঘটনা স্বীকার করলেও  আদালতে স্বীকার না করায়  রিমান্ড আবেদন দিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ  বলে জানিয়েছেন  সিলেট মহানগর  পুলিশের এডিসি মিডিয়া  সাইফুল ইসলাম। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা  কোতোয়ালি থানা পুলিশের    চৌকস  পুলিশ কর্মকর্তা  উপ পুলিশ পরিদর্শক  (এস আই) শিপলু জানান, রোমান হত্যা মামলায়  আটক আব্বাসকে  ৭ দিনের রিমান্ডে  চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।যার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে   সোমবার। 

সিলেট  মহানগরের কাজির বাজারে   চা দিতে দেরি করায় আলোচিত   হোটেল কর্মচারী    রুমন খুনের    মূলহোতা  আব্বাস( ৫৫)কে  আটকের পর  সোমবার   সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের  কোতোয়ালি মডেল থানা  পুলিশ  সিলেট মেট্রোপলিটন  আদালতের   প্রধান বিচারক শরিফুল হক  এর  নিকট  এজলাসে   হাজির করলে   খুনের  ঘটনার দায় স্বীকার করে  জবানবন্দি দেয়নি। যদিও পুলিশের কাছে  অনেকটা স্বীকার করেছিলো। তবে  আদালতের  নির্দেশে   ১৪ জুলাই  সোমবার  তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। 

 এজহার সূত্রেও স্থানীয় সূত্রে  জানা যায়,  আসামি আব্বাস মিয়া  ১৩ জুলাই  সকাল ৭টায় কাজির বাজার শাপলা হোটেলে  চা খাওয়ার জন্য  যান।হোটেল কর্মচারী রুমন কে   চা দিতে বলেন। কিন্ত চা দিতে দেরি হবে বলায় রোমানের সাথে শুরু করেন উচ্চ বাক্য গালিগালাজ। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে হোটেল মালিক ও  উপস্থিত লোকজন মীমাংসা করে দেন। কিন্তু সকাল ৯ টায়  আব্বাস মিয়া তার  ছেলে খোকন(  ৩৫), মোহন( ৩৭), রোকন (৩০), রুহান (২৫) সহ  অজ্ঞাতনামা  ব্যক্তিদের নিয়ে  শাপলা হোটেলে ভেতরে ঢুকে  শাটার বন্ধ করে  হোটেল কর্মচারী রুমনের  ঊপর  চালান অমানবিক নির্যাতন। 

দেশীয় অস্ত্র দিয়ে  একের পর এক স্টপিং  এতে অনেকটি লক্ষ্যভ্রষ্ট  বুকে আর দুপাশে  চারটি স্তূপিং এর  দৃশ্যমান চিহ্ন রয়েছে হোটেল কর্মচারী  খুন হওয়া দিদার আহমদ  রুমনের শরীরে।  মৃত্যু নিশ্চিত করার পর  কিলিং মিশন শেষ করে  আব্বাস বাহিনীর প্রধান  আব্বাস তার বাহিনী নিয়ে  ঘটনা স্থল ত্যাগ করেন।  দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত থাকায়  কেউ তাদের  আটকাতে সাহস করে নি।  

ঘটনার মূলহোতা আব্বাস  (৫৫)  তোপখানা  একটি কলোনিতে  ভাড়াটি থাকেন   দীর্ঘদিন থেকে।   তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জে। দীর্ঘদিন থেকে সিলেটে থাকার সুবাদে   একটি বিশেষ মহলের  শেল্টারে  আব্বাস গড়ে তুলেছেন একটি অপরাধী সিন্ডিকেট । 

কেউ কেউ মৎস্যজীবী হিসেবে  আব্বাসকে চিনলেও   অন্যরা চিনে  রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট  ব্লেকার  হিসেবে।  দীর্ঘদিন আগে থেকে আব্বাস সিলেট শহরে এসে  আওয়ামী লীগের নেতাদের  শেল্টারে  অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করলেও   ৫ আগস্টের পর  কোন এক বিএনপি নেতার  ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে 
এই আব্বাস বলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক  অনেকেই জানিয়েছেন। 

রাত্রিকালীন সময়ে ও  ভোর রাতে   আব্বাসের ছেলেরা  সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে  কাজির বাজার রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে  দেশীয় অস্ত্র নিয়ে  অত পেতে থাকে।  ঘটায় বিভিন্ন অপকর্ম ও চুরি, ছিনতাই। কিন্তু মানুষজন ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে নালিশ পর্যন্ত করেনা। আব্বাসের সকল  অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  বের হয় ঘর থেকে। ঘটনার দিন  একই রকম তারা বাইরে ছিল  খবর পেয়ে আসতে দেরি হয়  ৭ টার ঘটনা  ৯টায় ঘটে।

রুমন খুনের  ঘটনায়  তার ভাই  মো:  রেজু মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায়  একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।  যার নং১৯ রুমন মোগলা বাজার থানার জালালপুর এলাকার সব্দালপুর  গ্রামের  মৃত  তখলিছমিয়ার পুত্র ।


সিলেট প্রেস / ২০ জুলাই ২০২৫/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া

প্রকাশ: ২০২৫-০৭-২০ ০৯:০৭:০৭