সিলেটে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতন, ভিডিও ধারণ এবং ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।
বুধবার রাতে নগরীর দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- ভার্থখলা এলাকার নাজমুল হোসেনের ছেলে আহমদ হোসেন মাহিন (৩০) ও শরীয়তপুর জেলার নাড়িয়া থানার হালইসার এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সুহেল আহমদ (২৪)।
র্যাব জানায়, ভিকটিম সিলেটের কানাইঘাট থানাধীন সোনারখেওড় এলাকার বাসিন্দা। গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে সিলেট কোর্টে একটি মামলায় হাজিরা শেষে তিনি বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। কদমতলী ওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে পৌঁছালে অপহরণকারীরা চলন্ত বাসের গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক একটি নোহা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
গাড়িতে তোলার পরপরই ভিকটিমের দুই চোখ এবং হাত বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারপিট ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
প্রাণের ভয়ে ভিকটিম তার ভাই ও বোনকে মুক্তিপণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাঁচাতে অপহরণকারীদের দাবিকৃত ৮ লাখ টাকা (পৃথকভাবে ৫ লাখ ও ৩ লাখ টাকা) প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের তালতলা এলাকায় ভিকটিমকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয় অপহরণকারীরা।
এই নৃশংস ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব অভিযুক্তদের ধরতে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















