বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সরকারি জায়গা দখল করে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ও ভূমি অফিসের অভিযান সত্ত্বেও, প্রভাবশালী এক ব্যক্তির কারণে পুনরায় বালু ভরাট শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-কোটালীপাড়া মহাসড়কের বাইপাস সড়কের কুয়াতিয়ারপাড় এলাকায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাট্স) সংলগ্ন সওজ’র জায়গার পাশে সফিকুল ইসলাম সকুল সেরনিয়াবাতের কাছ থেকে ৯ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন আতিকুর রহমান। এই জায়গায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বালু ভরাট শুরু হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আতিকুর রহমান ওই জায়গাটি ক্রয় করেন এবং নিজের জায়গার সঙ্গে সরকারি জায়গা ভরাট করে দখল করতে থাকেন।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, “স্থানীয় প্রশাসন যখন প্রথমবার বালু ভরাট বন্ধ করে দিল, তখনও রহস্যজনকভাবে কিছু দিন পর পুনরায় কাজ শুরু হয়। মনে হচ্ছে সকলকে ম্যানেজ করে কাজ চালানো হচ্ছে।”
প্রভাবশালী ব্যক্তির যুক্তি:
অতিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “সড়কের পাশে সবাই সরকারি জায়গা ভরাট করে। তাই আমিও করেছি।”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
রতœপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা উত্তম বেপারী বলেন, “সরকারি জায়গা কেউ ভরাট করতে পারবে না। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করেছি। তবে কেন পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে, তা জানেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।”
বরিশাল সওজ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন মিয়া বলেন, “সওজ’র জায়গা কেউ ভরাট করতে পারবে না। যদি কেউ ভরাট করে থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক জানান, “বালু ভরাটের বিষয়টি আমার কাছে এসেছে। আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদারকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলব।”
সমস্যার গভীরতা:
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, “প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। সরকারি জায়গা দখল ও বালু ভরাট শুধু সড়কের নিরাপত্তা এবং পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং স্থানীয়দের জীবিকা ও কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করছে।”
এই ধরনের অনিয়ম অনবরত চলতে থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কার্যকরভাবে প্রভাব ফেলতে পারছে কি না—এ প্রশ্ন উঠেছে। সীমিত প্রশাসনিক নজরদারি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্থানীয় ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের চাপ মিলিয়ে সরকারি জায়গা রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উপসংহার:
আগত প্রতিক্রিয়াগুলো দেখাচ্ছে, শুধু পুলিশি অভিযান বা ভূমি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ যথেষ্ট নয়। সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য স্থায়ী নজরদারি, স্থানীয় জনগণের সহায়তা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবেলা করার সুসংগঠিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। না হলে, সরকারি সম্পত্তি দখল ও অবৈধ বালু ভরাটের ঘটনা আগের মতোই চলতে থাকবে।




















