কোম্পানীগঞ্জে বালু লুটের মামলায় স্বাক্ষী আসামি, পুলিশের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ২৯/১২/২০২৫ ০৮:৩০:৩৪ PM

Share
37

গত ২৩ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জ থানায় কালাইরাগ, বাংকার ও সাদাপাথর এলাকা থেকে বালু লুটপাটের অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক এবং অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আমিরুল ইসলামের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসি শফিকুল ইসলাম খানের স্বাক্ষরে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলা নম্বর- ২৪।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এজাহারনামীয় আসামিগণ ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে কালাইরাগ, বাংকার ও সাদাপাথর এলাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু লুটপাট করেছে।

কিন্তু অভিযুক্ত আসামিদের অনেকের বক্তব্যে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত মামলার ৪ নম্বর আসামি মশাহিদ আলী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও পতিত আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক কাজল সিং ফোন করে তাকে দ্রুত সেখানে যেতে বলেন, যেখানে পুলিশসহ তারা বসা ছিলেন।

তিনি বলেন, সেখানে পৌঁছালে দারোগা ও কাজল মেম্বার তাকে জিজ্ঞেস করেন কারা বালু তুলছে এবং তাদের নাম বলতে বলেন। তিনি জানান, তিনি এসব বালুর কোনো ব্যবসা করেন না এবং কে বা কারা করে তাও জানেন না। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, নাম বলতে হবে। তিনি আবারও জানান, রাতের আঁধারে কে বা কারা বালু তোলে তিনি জানেন না এবং এসব ঝামেলায় জড়াতে চান না।

এক পর্যায়ে দারোগা তাকে স্বাক্ষী হিসেবে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে কাজল মেম্বার বলেন, তিনিও স্বাক্ষী দিচ্ছেন, তাই তাকেও দিতে হবে। এরপর তিনি স্বাক্ষর করেন। পরদিন সন্ধ্যায় তিনি জানতে পারেন, তিনি মামলার ৪ নম্বর আসামি।

মশাহিদ আলী আরও বলেন, তিনি যখন স্বাক্ষর দেন তখন কাগজে যাদের নাম ছিল, মামলায় তাদের অনেকের নাম নেই। এতে তিনি ও অন্যান্য ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, পুলিশ টাকা নিয়ে মূল আসামিদের নাম বাদ দিয়ে নিরীহ মানুষদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন।

এদিকে স্থানীয় উত্তর কলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার ১৪ নম্বর আসামি মাসুক মিয়া বলেন, তার বাড়ি ধলাই ব্রিজের পাশে এবং তিনি ধলাই ব্রিজ রক্ষা আন্দোলনের একজন কর্মী। তিনি বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তার নাম কীভাবে মামলায় এলো তিনি বুঝতে পারছেন না। গত ছয় মাসেও তিনি দয়ারবাজার বা কালাইরাগ যাননি। পূর্বশত্রুতার জেরে টাকার বিনিময়ে পুলিশের কাছে তার নাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পুলিশ ট্রাক্টর ও পেলোডার ধরলেও কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়। পরদিন শোনা যায়, যাদের কোনো গাড়ি বা ব্যবসা নেই, তারাই মামলার আসামি হয়েছে। পুলিশের এসব নাটক বন্ধ হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কাজল সিংয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলায় যাদের নাম এসেছে তিনি তাদের চেনেন না এবং এসব ঝামেলায় জড়াতে চান না। তবে মশাহিদ আলীর বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মামলা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষে নিরপরাধ কারো নাম থাকলে চার্জশিট দেওয়ার সময় তা বাদ দেওয়া হবে এবং নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৫-১২-২৯ ২০:৩০:৩৪