শিক্ষিকাকে গভীর রাতে কল দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশের সময় : ১৪/০৫/২০২৬ ০৪:২৪:৫০ PM

উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়।

Share
15

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে।বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষক সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা। 

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তার। সম্প্রতি তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়া গভীর রাতে ওয়াটসআপে ভিডিও কলে কথা বলার চেষ্টা করে।

শিক্ষিকা লুৎফা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে মানসিক চাপে রাখা হয়। বিষয়টি তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসার তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করবেন না। এমনকি তিনি বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ভিজিটে যাবেন না বলেও আশ্বস্ত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি আর না বাড়ানোর এবং এ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট বা প্রমাণ প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষিকা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাক-প্রাথমিকের ফোর প্লাস প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি আক্তার সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তারের নাম প্রস্তাব করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পরিচয়ে ওই প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি আক্তার জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রশিক্ষণের জন্য একজন শিক্ষকের নাম চাওয়া হলে তিনি সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তারের নাম প্রস্তাব করেন। পরে তারা জানতে পারেন, শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজিরা বেগমকে ওই প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। অথচ চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে তিনি শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগ আছে, সুলেমান মিয়া তাহিরপুরে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছেন। তিনি সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপির বোন জামাই পরিচয় দিয়ে প্রভাব দেখান। যোগদানের পর সুনামগঞ্জ শ্বশুড়বাড়ি পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষকদের অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগেও এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘আমার মানহানি করার জন্য আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। হয়রানীর জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এই শিক্ষিকা আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমার পরিবারে অশান্তি সৃষ্টির জন্য নানা কথা রটচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনী ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ’আমি যেকোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রশিক্ষণে পাঠাতে পারি। কাকে পাঠাব সেটা আমার বিষয়।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাস বলেন, ’তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ’একজন সহকারী শিক্ষিকা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর মাধ্যমে তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৫-১৪ ১৬:২৪:৫০