মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাতে শোভনের প্রতারণা

  • প্রকাশের সময় : ১৯/০৭/২০২৬ ০৭:১৭:৪০ PM

Share
13

সিলেট নগরীর কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবাদ আহমেদের ছেলে শোভন আহমদ। তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। মাদকা, জুয়া এবং একের পর এক জালিয়াতির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার। তার এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ও ধারাবাহিক প্রতারণার কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরাও।


জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শোভন ছিলো নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। সেই সময় থেকে শোভন মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত। গেলো ৩ বছর ধরে নেশার টাকা এবং জুয়ার টাকার জন্য তিনি অভিনব সব প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। বিভিন্ন শোরুম থেকে কিস্তিতে ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ক্রয় করে তা বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর সেই টাকা দিয়ে জুয়া খেলেন এবং মাদক সেবন করেন।  কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় একের পর এক নোটিশ আসছে তার পরিবারে। এসব কারনে তাকে জেলও খাটতে হয়েছে।


শোভনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে একটি ডিআই পিকআপ গাড়ি নিয়ে। জনৈক এক ব্যক্তির একটি ডিআই ট্রাক চট্টমেট্রো-ন-১১-৮৫০৭ তার হেফাজতে রক্ষিত ছিল। প্রকৃত মালিকের অজান্তেই প্রায় এক বছর আগে সুনামগঞ্জের বেলাল আহমদ নামক এক ব্যক্তির কাছে গাড়িটি ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন শোভন। মূলত গাড়ির প্রকৃত মালিক অন্যজন হলেও শোভন নিজে মালিক সেজে এই প্রতারণা করেন। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরিও হয়েছে। চলতি বছর সুনামগঞ্জে ডিআই ট্রাক চট্টমেট্রো-ন-১১-৮৫০৭ গাড়িটি বিক্রি করার পর সবজি নিতে আসে নগরীর সোবহানীঘাটে। এই সময় স্থানীয় ডিআই ট্রাক চালকরা বিষয়টি দেখে গাড়িটি আটক করে ট্রাক শ্রমিক সমিতির কাছে নিয়ে দেয়। এতেই বেড়িয়ে আসে শোভনের প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই জালিয়াতির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বর্তমানে সুনামগঞ্জের বেলাল আহমদ বিচারপ্রার্থী হয়েছেন ট্রাক শ্রমিক সমিতির কাছে। শোভন বেলাল আহমদের কাছ থেকে প্রতারনা করে যে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছেন তা দেবার নামও নিচ্ছেন না। বরং কুমারপাড়ার এক বিএনপি নেতার দাপট দেখাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ পরিবহন শ্রমিক সমিতি এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও লিখিত অভিযোগ করেছেন।


এছাড়াও, শোভন তার প্রতারণার জাল বিছিয়ে দক্ষিণ সুরমার ব্যবসায়ীসহ নগরীর অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও তার এক বন্ধুর কাছে আরও একটি গাড়ি দেখিয়ে ২ লাখ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারনে অতীতে শোভনকে জেল খাটতেও হয়েছে। তবে জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও একই অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন।


শোভনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে না পেরে প্রতিদিন অসংখ্য ভুক্তভোগী ও পাওনাদার তার কুমারপাড়ার বাড়িতে ভিড় করছেন। অসহায় পরিবারটির কাছে বিচার প্রার্থী হয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ পরিবারের সদস্যরাও তার এই অবাধ্য ও অপরাধমূলক আচরণে সম্পূর্ণ অতিষ্ঠ এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। 


ভুক্তভোগীরা এই চিহ্নিত প্রতারক ও মাদকাসক্তের হাত থেকে বাঁচতে এবং পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৯ ১৯:১৭:৪০