সিলেটে বছরের একটা সময় গ্রামগঞ্জে শোনা যেতো ছেলেধরার কথা। ইদানিং এমন কথা শোনা না গেলেও ফের ছেলেধরার ঘটনা ঘটছে। শনিবার (২৪ জুন) বিকেল সোয়া ৫টায় সিলেট নগরে হাতেনাতে ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে আটক করে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। জনসাধারণ ছেলেধরা সন্দেহে যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তার নাম রাসেল আহমদ (২৯)। সে কানাইঘাট থানার জৈন্তাপুর উপজেলার কইনাখাই গ্রামের সাজিদ মিয়ার পুত্র। বর্তামান সে নগরীর খোজারখলার খলিলের রিকশার গ্যারেজ বসবাস করছে।
উদ্ধার হওয়া দুই শিশু হলো সিলেট নগরের ভার্থখলা সি ব্লকের রূপজ গলির মাসুম আহমদের বাসার ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলামের ছেলে ইউনূস (৬) ও একই এলাকার জিয়াউল মিয়ার বাসার ভাড়াটিয়া রফিক মিয়ার মেয়ে মাদিয়া (৬)। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে শিশু উদ্ধারকারী প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইসক্রিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভার্থখলা সি ব্লক থেকে বিকেলে একটি ছেলে শিশু ও একটি মেয়ে শিশুকে আইসক্রিম বিক্রেতার ছদ্মবেশে ছেলেধরা নিয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পর পরিবার শিশু দুটিকে খোঁজতে থাকে।
পার্শ্ববর্তী বি ব্লকের নির্জন স্থানে মেয়ে শিশুর পড়নের প্যান্ট খোলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে শিশুদের পরিচিতজনরা তাদের উদ্ধার করে। সে সময় ছেলেধরা পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ঝাপটে ধরে আটক করা হয়। শিশুদের বিষয়ে নানা প্রশ্ন করলে সে অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। খবর দেয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগে উৎসুক জনতা আটককৃতকে উত্তমমধ্যম দেয়। সে সময় আটক করা হয় আইসক্রিম বিক্রির গাড়ি। তবে গাড়িতে কোনো আইসক্রিম পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ অভিভাবকসহ দুই শিশু ও অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।
সাদিয়া আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক ফজর উদ্দিন বলেন, রাসেল মূলত একজন রিক্সা চালক। সে অনিয়মিত আইসক্রিম বিক্রেতা। মাঝেমধ্যে ফ্যাক্টরিতে এসে রিকশা রেখে আইসক্রিম গাড়ি নিয়ে বের হতো। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে কথা হয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার অন্তর্গত লাউয়াই পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সাথে। তিনি সিলেটপ্রেস কে জানান, অভিযুক্ত যুবক একজন মাদকসেবী। মেয়ে বাচ্চার সাথে খারাপ কিছু করার উদ্দ্যেশে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
জাবেদ এমরান




















