চিকিৎসক সংকটে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোগান্তিতে দুই লাখ মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০৬/২০২৬ ০৬:৫৮:১৮ PM

Share
2

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৩৫ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র সাতজন। এর মধ্যে প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত রোগী দেখতে পারেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ফলে কার্যত ছয়জন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করেই চলছে প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার মানুষও।


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বলছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অনুমোদিত ৩৫টি চিকিৎসক পদের মধ্যে মেডিসিন, চক্ষু, অর্থোপেডিক্স, ডেন্টাল, স্ত্রী ও প্রসূতি, সার্জারি, নাক-কান-গলা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য। বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকেরা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করায় অনেক সময় জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড ও কেবিনে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। কোনো চিকিৎসক ছুটিতে থাকলে বা অসুস্থ হলে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও জটিল।


একসময় প্রসূতি সেবায় দেশের সেরা উপজেলা হাসপাতালের স্বীকৃতি পাওয়া বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে সেই সুনাম ধরে রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তান্নি বেগম বলেন, আমার শাশুড়ির গতকাল থেকে ডায়রিয়া হচ্ছে। হাসপাতালে নিয়ে এসেছি চিকিৎসার জন্য। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় ভালো চিকিৎসা হচ্ছে না। গতকাল থেকে নার্স এসে দেখে যাচ্ছেন এবং স্যালাইন দিচ্ছেন। এখনো কোনো উন্নতি হয়নি। তাই ভাবছি পাশের ক্লিনিকে নিয়ে যাব।


পাঁচ বছরের মেয়ে রুমাইজাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন শারমিন বেগম নামের আরেক নারী । তিনি জানান, দুই দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক এসে তার মেয়েকে দেখেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে এই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যেত। এখন আগের মতো সেবা মিলছে না। আমার মেয়ে এখনো সুস্থ হয়নি, তাই অন্য কোথাও নেওয়ার কথা ভাবছি।


ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিতে আসা মইন উদ্দিন বলেন, আমি নিয়মিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। আগে আসার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকরা প্রেসার মেপে ওষুধ দিতেন। কিন্তু আজ সকাল থেকে অপেক্ষা করেও কোনো ডাক্তার পাচ্ছি না।


সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আমান উদ্দিনের ভাষ্য, বিয়ানীবাজারের মতো বড় উপজেলার জনসংখ্যা ও রোগীর তুলনায় এত কম চিকিৎসক দিয়ে কার্যকর চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছে না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পায়।


চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মনিরুল হক। ৩৫টি পদের বিপরীতে হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন। তিন শিফটে ভাগ হয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। কোনো চিকিৎসক ছুটিতে গেলে বা অসুস্থ হলে ভর্তি রোগী এবং বহির্বিভাগে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে আমাদের মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। প্রতিদিন বিয়ানীবাজারসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে হাজার হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল দিয়ে তাদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার মৌখিকভাবে এবং চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-০৭ ১৮:৫৮:১৮