মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে "ব্রাইট কিচেন" নামের একটি রেস্টুরেন্ট—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন এক ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী। ৮০০ টাকার ‘মেম্বারশিপ কার্ড’ বিক্রি করে গ্রাহকদের সাথে চরম প্রতারণা ও দুর্ব্যবহারের এই ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের মাঝে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে ‘ব্রাইট কিচেন’ রেস্টুরেন্টের প্রতিনিধিরা গ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয় অফারের লোভ দেখিয়ে ৮০০ টাকা মূল্যের মেম্বারশিপ কার্ড বিক্রি করে।
কার্ড বিক্রির সময় তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ছিল ১ বছরের দীর্ঘ মেয়াদ,৩২টি আকর্ষণীয় ‘ফ্রি টোকেন’,যেকোনো একটি খাবার কিনলে আরেকটি খাবার সম্পূর্ণ ফ্রি (Buy 1 Get 1) ইত্যাদি।
কিন্তু বাস্তবে এই কার্ড কিনে চরম ভোগান্তি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। একজন ভুক্তভোগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, গত পরশু তিনি রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে কর্মচারীরা সরাসরি জানিয়ে দেয়, "এখন কোনো অফার নেই"। পরবর্তীতে দীর্ঘ তর্কবিতর্কের পর খাবার পরিবেশন করা হলেও গ্রাহককে শুনতে হয়েছে কর্মচারীদের খোঁটা। "আপনাদের খাবার দিলে আমাদের লস হয়"—এমন মন্তব্য করে গ্রাহককে চরমভাবে অপমানিত করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্রাইট কিচেনের এই মেম্বারশিপ মূলত একটি আইওয়াশ।
"মেম্বারশিপ মেন্যুতে প্রতিটি খাবারের দাম সাধারণ মেন্যুর চেয়ে দ্বিগুণ বা ডাবল করে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, একটা কিনলে একটা ফ্রির নামে আসলে গ্রাহকের কাছ থেকে আগেভাগেই দুটি খাবারের দাম একবারে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"
এর পাশাপাশি খাবারের মান অত্যন্ত জঘন্য এবং রেস্টুরেন্টের সার্ভিস ও কর্মচারীদের আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, এই জালিয়াতির প্রতিবাদ করে যখন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়, তখন রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের মুখে হেসেই উড়িয়ে দেয়। তারা দম্ভোক্তি করে বলে, "কমপ্লেইন দিয়ে কোনো লাভ নাই।" একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এমন বেপরোয়া ও আইন অমান্য করার মানসিকতা দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—কার খুঁটির জোরে এত বড় প্রতারণার পরও তারা এতটা পার পেয়ে যাচ্ছে?




















