আগামী ৫ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের কয়েকটি জেলায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, শুক্রবার (১৯ জুন) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শনিবার (২০ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এদিন সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৩ দিনেও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে; ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ১১-২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে তাকে মাঝারি-ভারী, ৪৪-৮৮ মিলিমিটার হলে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতিভারী বৃষ্টিপাত বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাশ বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার পর সিলেট, ময়মনসিংহ এবং উত্তরাঞ্চলের আপার অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ৩-৪ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীগুলোর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সেই সঙ্গে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী এবং উজানে ভারতের মেঘালয় প্রদেশে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে; যা আগামী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ৪ দিন বাড়তে পারে। তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন অব্যহত থাকতে পারে। আর কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল কমেছে; যা আগামী একদিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুদিন বাড়তে পারে। এ সময়ে নদীগুলো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে; আর ধরলা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। এসব নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে তিস্তা নদী লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি সমতল বেড়েছে, অপরদিকে ভুগাই নদীর পানি কমেছে। এসব নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে নদীগুলো নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।



















