মৌলভীবাজারে গ্রাহকদের উপরে ‘ভুতুড়ে বিলের’ বোঝা

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০৭/২০২৬ ০৫:২১:১৭ AM

Share
2

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের ওপর যেন ‘ভুতুড়ে বিলের’ বোঝা চেপে বসেছে। গত কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক ও কাল্পনিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই অতিরিক্ত বিল সংশোধন করতে গিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও মিলছে না সুরাহা; উল্টো চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বাস্তবের সাথে মিল নেই বিলের, ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা

​ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত প্রকৃত ইউনিটের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া বিলের কোনো মিল নেই। মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অনেকের বিল এসেছে তিন থেকে চারগুণ বেশি।

​উপজেলার সদর ইউনিয়ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

​"আমার ছোট দোকানে প্রতি মাসে সাধারণত ৫০০-৬০০ টাকা বিল আসে। কিন্তু এবার কোনো কারণ ছাড়াই জুনে বিল এসেছে ৪,৮০০ টাকা! মিটারের রিডিং চেক করে দেখি বিলে অনেক বেশি ইউনিট লিখে রাখা হয়েছে। অফিসে যাওয়ার পর তারা কিছুটা সমন্বয় করে ১,৮০০ টাকার একটা বিল ধরিয়ে দিয়েছেন।"


​একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল অদুদ। তিনি বলেন, "আমার প্রতিষ্ঠানের সব বিল পরিশোধ করা থাকলেও জুন মাসের বিলের সঙ্গে ২০২৪ সালের মার্চ মাসের একটি বকেয়া বিল যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন এই দায়ভার কার? ব্যবসা ফেলে আমাকে প্রতিদিন বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরতে হচ্ছে।"

অফিসে বসেই তৈরি হচ্ছে বিল, ‘স্ল্যাব’ পরিবর্তনের গ্যাঁড়াকল

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে গিয়ে মিটারের প্রকৃত রিডিং না দেখেই অফিসে বসে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এই বিল তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের মিটার রিডাররা নিয়মিত গ্রাহকদের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে, একবারে কয়েক মাসের রিডিং একসঙ্গে জমা দিচ্ছেন। এর ফলে গ্রাহকরা ‘স্ল্যাব’ (বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যের স্তর) পরিবর্তনের গ্যাঁড়াকলে পড়ছেন এবং কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও উচ্চহারে বিল দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

​কমলগঞ্জের ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর, মাধবপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। এই অস্বাভাবিক বিলের বোঝা টানতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

সংশোধনের নামে হয়রানি ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি

​অস্বাভাবিক এই বিলের কপি নিয়ে গ্রাহকরা যখন স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে যাচ্ছেন, তখন তাদের পোহাতে হচ্ছে আরেক দফা ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, বিল সংশোধনের অনুরোধ করলে উল্টো গ্রাহকদের ধমক দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সময়মতো এই ভুতুড়ে বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

সফটওয়্যার পরিবর্তনকে দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ

​গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ।

​সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,​আমাদের সিস্টেমে সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে কিছু গ্রাহকের সমস্যা হয়েছে। পুরাতন বিল লেজারে উঠে গেছে। আমরা দ্রুত বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করছি। মিটারে কোনো ত্রুটি বা রিডিংয়ে ভুল হলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধন করা হবে।

​গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে ডিজিএম আরও আশ্বাস দেন, "গ্রাহকদের অযথা হয়রানি করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই বিল সংশোধন করে দেবো।"

​তবে কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসের পরও দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান কমলগঞ্জের হাজারো পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৬ ০৫:২১:১৭